
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তরুণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে এবং বিজ্ঞানমনস্ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) উদ্যেগে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানবিষয়ক তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী 'নবদিগন্ত' এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চাকসু প্রাঙ্গণে এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চাকসু নেতারা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। 'নবদিগন্ত' ম্যাগাজিনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাছাইকৃত প্রবন্ধ সংকলন করা হয়েছে। এ ছাড়াও চাকসু বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের নির্বাচনকালীন ইশতেহার ও ইশতেহার বাস্তবায়ন ও ইশতেহার বহির্ভূত বিভিন্ন কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে। চাকসুর বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, তেপান্তর সাহিত্য সভার সভাপতি মুহাম্মদ রিয়াদ উদ্দিন সহ চাকসুর অন্যান্য সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, আবেগ বা পদ-পদবি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু প্রকাশনা বা লিখিত দলিল দীর্ঘস্থায়ী যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকনির্দেশনা হিসেবে থেকে যায়। শূন্য বা মাইনাস থেকে শুরু করে অনভিজ্ঞতা সত্ত্বেও ক্যাবিনেটের সদস্যরা দক্ষতার সাথে কাজ পরিচালনা করেছেন। পুরো মেয়াদে ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা, কার্যালয়ে তালা মারা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা সিট দখলের মতো ঘটনা ঘটেনি। মেয়াদ শেষেও শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করার পাশাপাশি সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতার দায় স্বীকারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। সহকর্মী ও সাংবাদিকদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন , আমাদের প্রত্যেক সম্পাদক নিজেদের ব্যক্তিগত এবং সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুত কাজগুলো ধরে ধরে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছে। বোনদের হলের বাজেট বরাদ্দসহ আবাসন সমস্যার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছরের ইতিহাসে এনালগ পদ্ধতি তুলে দিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে, ফলে এখন আর ব্যাংক বা সনাতন লাইনে না দাঁড়িয়ে অনলাইনেই সনদ ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে। এছাড়া মেডিকেল সেন্টারে ওটি স্থাপন, সিবিসি মেশিন ও অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। গত এক বছরে ক্যাম্পাসে রেকর্ড সংখ্যক প্রোগ্রাম, কোর্স ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দপ্তর সম্পাদক দিনরাত পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের সেবা দিয়েছেন। ক্যাম্পাসের পূর্বের বিভীষিকাময় সময়ের কথা তুলে ধরতে 'নির্যাতনের দাগ' শিরোনামে একটি বিশেষ প্রকাশনা বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও ফ্যাকাল্টি নির্বিশেষে ক্যাম্পাসের ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর সমান অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই এই চাকসু পরিচালিত হয়েছে।