ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জার্সি পরে নামাজ আদায় করা যাবে?

আদিল রহমান
জার্সি পরে নামাজ আদায় করা যাবে?

কিছু দিন হলো ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ শুরু হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলে আমাদের দেশে বিভিন্ন দলের জার্সি পরা মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। জার্সি পরে কেউ কেউ নামাজও আদায় করেন। প্রশ্ন হলো, জার্সি গায়ে নামাজ আদায় করা জায়েজ কি না?

নামাজ ইসলামের মৌলিক ইবাদত। প্রাপ্তবয়ষ্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। নামাজে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথন হয়। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক গভীর হয়। নামাজকে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সাক্ষাৎ বলা হয়েছে। নামাজ যেহেতু আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সাক্ষাৎ, তাই নামাজে বান্দার পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। পবিত্র ও সুন্দর পোশাক পরে নামাজে দাঁড়াতে হবে।

শরিয়তের দৃষ্টিতে জার্সি পরিধান করে নামাজ আদায় করলে মৌলিকভাবে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। তবে এর বিস্তারিত বিধান নির্ভর করে জার্সির ধরন ও এতে ব্যবহৃত চিত্রের ওপর।

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, জার্সিতে কোনো প্রাণীর সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ ছবি থাকলে তা পরিধান করে নামাজ আদায় করা উচিত নয়। নামাজ আদায় করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হবে। কারণ, ইসলামে প্রাণীর ছবি ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। বিশেষত নামাজের মতো মহান ইবাদতের সময় এমন বিষয় থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। (ফতোয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১০৭)।

ফকিহদের মতে, জার্সিতে থাকা ছবি বা লোগো যদি এতটাই ছোট, অস্পষ্ট অথবা এমনভাবে আবৃত থাকে যে তা সহজে শনাক্ত করা না যায়, তাহলে সেই পোশাক পরে নামাজ আদায় করলে তা মাকরুহ হবে না। একইভাবে গাছপালা, পাহাড়, নদী, ঝরনা কিংবা অন্যান্য প্রাণহীন বস্তুর ছবি থাকলে তা ব্যবহার করাও বৈধ। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৬৪৭)।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘হে আয়েশা, তুমি কি জান না? যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আর যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে তাকে কেয়ামতের দিন শাস্তি দেওয়া হবে। তাকে (আল্লাহ) বলবেন, ‘তুমি যে প্রাণীর ছবি বানিয়েছ, এখন তাতে প্রাণ দান করো।’ (বোখারি: ৪৮০৭)।

নামাজের সময় পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরিধান করা ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ বলেন, ‘হে আদমসন্তান, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় নিজেদের সৌন্দর্য ও শোভা-সজ্জা গ্রহণ করো।’ (সুরা আরাফ: ৩১)।

আলেমরা বলেন, এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, নামাজের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শালীন ও মর্যাদাপূর্ণ পোশাক পরিধান করা মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ সে তখন সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক মহান আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘কাপড়ে প্রাণীর ছবি স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হলে সেই কাপড় পরে নামাজ পরা মাকরুহে তাহরিমি বা হারামের কাছাকাছি। তবে কোনো কাপড় দিয়ে ওই ছবি ঢাকা থাকলে নামাজ মাকরুহ হবে না। কোনো প্রাণীর স্পষ্ট দৃশ্যমান ছবিযুক্ত কাপড় নামাজের বাইরেও পরিধান করা গুনাহের কাজ। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।’

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘জার্সি পরিধান করে নামাজ আদায় করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে এমন কোনো পোশাক পরে নামাজ আদায় করা উচিত নয়, যে পোশাক পরে আমরা সম্ভ্রান্ত কোনো ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায় না। জার্সিতে যদি কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি থাকে, তাহলে সেটি পরিধান করে নামাজ আদায় করলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। তবে এমনটি করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত