
চতুর্থ বারের জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) থেকে নির্বাচিত প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোস্তফা কামাল পাশা। নির্বাচিত হওয়ার পর সন্দ্বীপবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্য ও আলোকিত বাংলাদেশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উন্নয়নের একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আমার নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ১৫ দফা পরিকল্পনা পর্যায়ক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, আধুনিক নৌ-যাতায়াত ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি এসবই আমার অগ্রাধিকারে তালিকায়। আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, সন্দ্বীপের সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা তার প্রথম ও প্রধান কাজ।
যাতায়াত ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, সন্দ্বীপবাসীর সবচেয়ে বড় সমস্যা মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ। আধুনিক নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা, হোভারক্রাফট চালুর উদ্যোগ, ড্রেজিং ও নিয়মিত ফেরি সার্ভিস নিশ্চিত করব এবং ইউনিয়ন লিংক সড়ক প্রশস্ত ও পাকা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। দ্বীপের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা চান তিনি এবং শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক সহ-অবস্থান নিশ্চিত করবেন বলে জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের চার বারের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা আবারও প্রমাণ করলেন- নেতৃত্বের শক্তি আসে মানুষের আস্থা থেকে, বয়স থেকে নয়। আশির কোঠায় পা দিয়েও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও জনসমর্থনের জন্যে তিনি পুনরায় জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলেন।
স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় রাজনীতিতে তার উত্থান এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে শুরু, তারপর একাধিকবার সংসদ সদস্য। এই পথচলায় তিনি বারবারই ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে, যখন সারাদেশে আওয়ামী লীগ ব্যাপক বিজয় পায়, তখনও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে জয় ছিনিয়ে এনে রাজনৈতিক দৃঢ?তার অনন্য নজির স্থাপন করেন তিনি।
পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে জনসেবার দর্শন : শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতি তার অনুরাগের শিকড় পারিবারিক ঐতিহ্যে। তার পিতা আবদুল বাতেন সওদাগর সন্দ্বীপের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় হাজী এ বি সরকারি কলেজ ও হাজী এ বি হাইস্কুল। এ ধারাবাহিকতায় স্থানীয় শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়নেও তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
নীরব সময় পেরিয়ে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন : ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক নীরব সময় পার করলেও দলীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন তার রাজনৈতিক অধ্যায় শেষের দিকে। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে দল আবারও তার ওপর আস্থা রাখে এবং তিনি প্রায় ২৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় এনে সেই আস্থার মর্যাদা রাখেন।
স্থানীয়দের মতে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ওপরই ভরসা করেছে সাধারণ মানুষ। চারবারের এই সংসদ সদস্যের এই প্রত্যাবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে- নেতৃত্বের মূল শক্তি অভিজ্ঞতা, স্থিরতা ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। সন্দ্বীপের মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই- প্রতিশ্রুত উন্নয়নের বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ, স্থিতিশীল জীবনযাত্রা।