ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কলেজছাত্র আশরাফুল হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি

কলেজছাত্র আশরাফুল হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ পলাতক অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, ঘটনার এক মাস পার হলেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। গতকাল বুধবার উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের বাবা আজিজুল হক খান, স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান। নিহত আশরাফুল ইসলাম উপজেলার চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হক খানের একমাত্র ছেলে। নিহত আশারাফুল ইসলাম রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। নিহতের বাবা আজিজুল হক খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি একজন অসহায় বাবা। আমি চাই দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।

তিনি আরও ঘোষণা দেন, হত্যাকারীদের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে গ্রেপ্তারে সহায়তা করতে পারলে তথ্যদাতাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়া এবং ডিবি পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যরা আশরাফুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে হাতুড়ি ও ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ জানুয়ারি বিকেলে তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি য় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। এরইমধ্যে চারজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামিসহ আরও কয়েকজন এখনও পলাতক। রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া বলেন, হত্যা মামলার চার আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।

আশা করছি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, আশরাফুল হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলে এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং তৎপরতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত