ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কলেজছাত্র হত্যার বিচার দাবিতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও

কলেজছাত্র হত্যার বিচার দাবিতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারী কিশোর দলের হামলার শিকার হয়ে নিখোঁজ থাকা আনন্দ মোহন কলেজের এক শিক্ষার্থীর লাশ দুইদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে শহরের জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের চরে লাশটি ভেসে ওঠে। নিহত নুরুল্লাহ শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকালে শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নদের বিপরীত পাড়ে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর দল তাদের ঘিরে ধরে কাছে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিতে চায়। নৌকা ভাড়ার বাইরে আর কোনো টাকা নেই জানালে দুই বন্ধুকে মারধর শুরু করে কিশোর গ্যাংরা। একপর্যায়ে শাওন প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম প্রহার করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টায় দৌড়দেয়। এ সময় চারজন মিলে শাওনের পিছু নেয় আর বাকি তিনজন মঞ্জুরুলের পিছুনেয়। প্রাণ বাঁচাতে মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পার হতে সক্ষম হলেও শাওনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে মঞ্জুরুল স্থানীয়দের সহায়তায় ১৫ বছর বয়সী এক অভিযুক্তকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে নদের পাড়ে শাওনের ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার হয়। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে নদে তল্লাশি চালালেও সেদিন তাকে পাওয়া যায়নি।

অবশেষে শুক্রবার রাতে নৌকার মাঝিরা নদের চরে লাশ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সহপাঠীরা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত শুক্রবার রাতেই আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা টাউন হল মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা অভিযুক্তদের শনিবার রাত ৮টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হয়। নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, আমরা একজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছি এবং বাকিদের নাম-ঠিকানা জানিয়েছি। তারপরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চারজনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নদ তীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও কিশোর অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত