
শীতের শেষে বসন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতিতে গাছে গাছে শোভা ছড়াচ্ছে শ্বেতশুভ্র সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণও অপরিসীম। এই শ্বেতশুভ্র ফুলগুলো যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার গ্রামের পথে-প্রান্তরে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করে এবং প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ, যা স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়।
সরেজমিনে অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে, যা প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য তৈরি করেছে।
সজনে গাছ সম্পূর্ণ বিনা পরিচর্চায় বিভিন্ন বাড়িতে, পরিত্যক্ত অনাবাদি যায়গায় বেড়ে উঠে। কিছু এলাকায় সজনে ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতি রঙিন হয়ে উঠেছে। সজনে ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই সকাল-বিকাল হাঁটার সময় বা সড়কে যাতায়াতের সময় সজনে ফুল দেখে থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন চোখজুড়ানো এই প্রাকৃতিক শোভা। গাছের নিচে পড়ে থাকা ঝরা ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছেন শিশু-কিশোররা।
জানা গেছে, সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি মরিঙ্গাসিয়া পরিবারের মরিঙ্গা গণের একটি গাছ। এটি খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের একটি উদ্ভিদ। মাঝারি আকারের এই গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং এর পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এটি ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এটির বংশবিস্তার করানো হয়।
সজনে ফুলেরও ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। সজনে ফুলে আছে এমন ঔষুধি গুণ যা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও এই ফুলে আছে ভরপুর পুষ্টিগুণ যা নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর ফল শরীরে প্রোটিনের জোগান দেয়। এই গাছের বিভিন্ন অংশে আছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী উপাদান।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সৈয়দ মহসিন বলেন, প্রকৃতিতে ফোটা এই সজনে ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছ একটি উপকারী ভেষজ ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ গাছ। এর পাতা, ফল ও ফুল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি খুব পরিচিত একটি গাছ।