
অসহায় ভিক্ষুকদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করা এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেন- সুলতানা খাতুন ও তার স্বামী মোবারক হোসেন। গত সোমবার রাতে রাজশাহী মহানগরীর পবা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন ও ৪টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিআইডি ইউনিট অব্যাহত রেখেছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তাদের প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিলেন। বাড়িতে কোনো ভিক্ষুক এলে তাদের সরকারি রেশন বা ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ বা রকেটের সিম কার্ড সংগ্রহ করতেন তারা। পরে সেই নম্বরগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফোন দিয়ে নিজেদের আত্মীয় পরিচয় দিতেন। ফোনে তারা দাবি করতেন, ভুক্তভোগীর কোনো নিকটাত্মীয় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত টাকা প্রয়োজন। বিপদের কথা শুনে আতঙ্কিত ভুক্তভোগীরা সত্যতা যাচাই না করেই ভিক্ষুকদের নামে খোলা ওইসব অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে মোবারক হোসেন ও সুলতানা খাতুন ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠে কথা বলতেন। কণ্ঠস্বর নিয়ে সন্দেহ এড়াতে তারা অসুস্থতা বা ব্যথার কারণে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে বলে অভিনয় করতেন। টাকা হাতে পাওয়ার পরপরই তারা ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। সম্প্রতি সুইডেনপ্রবাসী বোনের পরিচয় দিয়ে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এই চক্রের বিরুদ্ধে। সেই মামলার সূত্র ধরেই সিআইডির প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দম্পতি অসংখ্য মানুষের সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানায় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে তাদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।