
ফেনীতে কুড়িয়ে পাওয়া ৭ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক নিরাপত্তাকর্মী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গত শুক্রবার প্রকৃত মালিকের হাতে পুরো টাকাগুলোই তুলে দেন তিনি। সততার এই অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন ফেনী ডি ডি ল্যাবের নিরাপত্তা কর্মী আবু সাঈদ। জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর পৌনে ১টার দিকে ফেনী শহরের এসএসকে সড়কে অবস্থিত ওই ল্যাব প্রাঙ্গণে একজন রোগী ভুলবশত একটি ব্যাগ ফেলে চলে যান। পরে সেখানে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড আবু সাঈদ ব্যাগটি কুড়িয়ে পেয়ে সেটি সংগ্রহ করেন।
ব্যাগটি খোলার পর তিনি দেখতে পান এতে টাকার অসংখ্য বান্ডিল। কিন্তু একসঙ্গে এতো টাকা দেখেও মুহূর্তের জন্য বিচলিত হননি তিনি। বিন্দুমাত্র লোভ স্পর্শ করেনি তাকে। নিজের কর্তব্যে অটল থেকে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগটি ডিডি ল্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।
পরবর্তীতে গণনা করে দেখা যায়, ব্যাগটিতে মোট সাত লাখ টাকা রয়েছে। ঘটনার পরপরই ডি ডি ল্যাবের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তি দেখে গত শুক্রবার দুপুর ২টার কিছু পরেই প্রকৃত মালিক ল্যাবে উপস্থিত হন। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং উপযুক্ত প্রমাণ নিশ্চিত করার পর ডি ডি ল্যাবের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরাফাত নিশান এবং নির্বাহী পরিচালক ইফাত চৌধুরীর উপস্থিতিতে মালিকের হাতে তার আমানত তুলে দেন নিরাপত্তাকর্মী আবু সাঈদ। হারানো টাকা ফিরে পেয়ে টাকার মালিক অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আবু সাঈদ এবং ডি ডি ল্যাব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই পবিত্র রমজান মাসে এমন সততা সত্যিই বিরল।’ ডি ডি ল্যাবের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরাফাত নিশান বলেন, আবু সাঈদের এই মহানুভবতায় গর্বিত ডি ডি ল্যাব পরিবার। আবু সাঈদের মতো সৎ ও নির্লোভ কর্মী আমাদের প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। পবিত্র রমজান মাসে তার এই কাজ সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা ও উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘এ জন্য কর্তৃপক্ষ তাকে পুরস্কৃত করবে। তবে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে টাকার প্রকৃত মালিকের পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।