
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হচ্ছে। সেইসাথে চর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) নাজমুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও দফায় দফায় বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় কাজিপুর পয়েন্টে ২৩ সেঃ মিটার ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২০ সেঃ মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চরাঞ্চলের চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ, কাজিপুর উপজেলার ভেটুয়া, চরগিরিশ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকা সহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙ্গনে তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও বহু জায়গা জমি যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
ইতিমধ্যেই চর সলিমাবাদ ও পূর্ববাহুকা ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে কাজ চলছে এবং কাজিপুর উপজেলার চর এলাকার চরগিরিশে প্রচন্ড ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গনেও ইতোমধ্যেই বহু জায়গা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। তবে চরের ভাঙ্গন বিষয়ে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ভাঙ্গনের কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোত ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিশেষ করে চরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং দফায় দফায় প্রবল বর্ষণেও এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভাঙ্গন এলাকার অনেক স্থানে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ওই চর এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, এ ভাঙ্গনে বহু জায়গা জমি নদী গর্ভে বিলীন হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এভাবে ভাঙতে থাকলে মানচিত্র থেকে কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়ন হারিয়ে যাবে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে এ ভাঙন রোধে দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং চৌহালীর চর সলিমাবাদ ও সিরাজগঞ্জ পূর্ব বাহুকায় ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে এবং যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনই বন্যার আশংকা নেই। তবে ভাঙ্গনে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস ও বহু জায়গা জমি বিলিন হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।