
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ‘স্টেভিয়া’ বা ‘চিনি গাছ’ নামে পরিচিত বিরল উদ্ভিদটির অস্তিত্ব এখন শুধু একজনের বাড়িতেই। উপজেলার পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাহাতাব আলীর বাড়িতে বর্তমানে কয়েকটি স্টেভিয়া গাছ রয়েছে। ২ বছর আগে তিনি জমিতে এ গাছের চাষ করেছিলেন। সরেজমিনে পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে মাহাতাব আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে কয়েকটি স্টেভিয়া গাছ রয়েছে। উপজেলায় তার বাড়ি ছাড়া এই গাছ দেখা যায় না।
জানা গেছে, ২ বছর আগে রাজশাহীতে একটি কৃষি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে প্রথম স্টেভিয়া গাছ সম্পর্কে জানতে পারেন মাহাতাব আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী। প্রশিক্ষণে গাছটির পুষ্টিগুণ, ঔষধি বৈশিষ্ট্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তার বাড়িতে এসে পরীক্ষণ স্টেভিয়ার চারা রোপণ করে দেন এবং পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। মোহাম্মদ আলী চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেশে বাহিরে থাকায় তার পিতা মাহাতাব আলীর সাথে কথা হলে সে বলেন, কৃষি প্রশিক্ষণে গাছটির বিষয়ে জানার পর তিনি এটি চাষের উদ্যোগ নেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় জমিতে স্টেভিয়া চাষ শুরু করেন।
প্রায় দুই বছর আগে জমিতে বাণিজ্যিক আকারে চাষও করেছিলেন। ফলন ভালো হলেও বাজারজাত করণের সুযোগ না থাকায় এবং পর্যাপ্ত ক্রেতা না পাওয়ায় তিনি পরবর্তীতে চাষ বন্ধ করে দেন। তবে নিজের আগ্রহ থেকে বাড়িতে কয়েকটি গাছ সংরক্ষণ করে রেখেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, স্টেভিয়ার পাতা থেকে প্রাকৃতিক মিষ্টিকারক তৈরি করা যায়, যা সাধারণ আখের চিনির তুলনায় প্রায় ১৫০ থেকে ৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি। একই সঙ্গে এটি ডায়াবেটিস রোগী ও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের জন্য নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল মনে করেন, কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি, চারা সরবরাহ এবং বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে চারঘাটেও স্টেভিয়ার বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। এতে কৃষকরা নতুন একটি লাভজনক ফসলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্টেভিয়া একটি সম্ভাবনাময় মিষ্টিকারক উদ্ভিদ। এটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্দেশনা পেলে কৃষকদের এ ফসল চাষে উৎসাহিত করা হবে।