
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের হেলালপুর-খানপুরসহ পাঁচ গ্রামবাসী জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোতেই ৫৫ বছর ধরে পারাপার করছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই এলাকার গুরত্বিপূর্ণ খালের ওপর আজও নির্মিত হয়নি কোনো পাকা সেতু। নিত্যদিনের চলাচলের একমাত্র ভরসা তাই জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো।
আর এই সাঁকোতেই ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। ফলে বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ওসমানপুর ইউনিয়নের হেলালপুর, খানপুর, আদর্শগ্রামসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে খালের ভিতর দিয়ে পায়ে হেঁটে পার হতে হয়। আর বর্ষা মৌসুমে খাল পানিতে ফুলে উঠলে একমাত্র সম্বল হয় বাঁশের সাঁকো। সেই সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত করতে হয়। হেলালপুর আবাসনের বাসিন্দা হাসিনা খাতুন বলেন, 'বর্ষায় সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে থাকে। আমার ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে পার হতে গিয়ে কয়েকবার পড়ে গেছি। চলাচলে খুব সমস্যা। আতঙ্কে থাকি সারাক্ষণ। গৃহিণী চায়না খাতুন বলেন, একটা সেতু না থাকায় ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে এখন ১ ঘণ্টা ঘুরতে হয়। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। পানিতে পড়ে যায়। আর অসুস্থ মানুষের কথা তো কবোই (বলবো) না।
আজিজুল হক নামের এক ফেরিওয়ালা বলেন, মালপত্র নিয়ে সাঁকো পার হওয়া যায় না। ব্যবসা-বাণিজ্য একদম বন্ধ। গাড়িঘোড়া তো দূরের কথা, ভ্যানও চলাচল করে না। বৃদ্ধ ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
কারো হঠাৎ অসুস্থতা দেখা দিলে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন আসতে পারে না। তখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রোমেছা খাতুন খাতুন নামের একজন বলেন, গত মাসে আমার শাশুড়ি স্ট্রোক করেছিলেন। সাঁকো দিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘুরে যেতে যেতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, খালের ওপারে চাষাবাদ। চলাফেরায় খুব কষ্ট। এত বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। এখন আর কথা না, আমরা একটি সেতু চাই। খোকসা পৌর বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রিপন হোসেন বলেন, এই এলাকার মানুষের কষ্ট কথা শুনে নিজ চোখে দেখতে গিয়েছিলাম। আসলেও তাদের চলাচলে খুব ভোগান্তি হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, এরইমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাপঝোকের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে একটি ৪০ ফিট দ্যৈর্ঘের ত্রিভ্যান বক্স কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই খুব দ্রুতই কাজ শেষ করা হবে।