
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এরমধ্যেই অনেক স্থানে বসতবাড়ি ও জায়গা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি সামান্য করে বাড়ছে। এ পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চরাঞ্চলসহ অনেক স্থানে ভাঙ্গনও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর তীরবর্তী চৌহালী, বেলকুচি, শাহজাদপুর, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের অনেক স্থানে এ ভাঙ্গনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে সোমবার সকালে চৌহালী উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গনে এরইমধ্যে বহু জায়গা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। যেকোন সময় ওই স্কুলটি নদী ভাঙনে বিলীনের আশংকা করছে স্থানীয়রা। চরাঞ্চলের এ বিদ্যালয় রক্ষায় ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তারা। বিদ্যালয়টি রক্ষায় ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুত বালুর বস্তা দিয়ে ডাম্পিং করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে যে কোনো মুহূর্তে স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর এ ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক স্থানের বসতবাড়ি ও জায়গা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে এবং ওই বিদ্যালয় ভাঙ্গনের মুখে অবস্থান করছে। এছাড়া কিছুদিন আগে কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এখন চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, সকালে হঠাৎ করেই চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিমে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয় এখন হুমকির মুখে পড়েছে। এ উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। অথচ স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড তেমন কোনো এখন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অবশ্য এরআগে যমুনা নদীর অনেক স্থানে ভাঙ্গন রোধে কাজ করেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরমধ্যে চৌহালীর ভূতের মোড়, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকায় ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করা হয়। এতে এসব এলাকায় ভাঙ্গন অনেকটাই কমে গেছে। অথচ ওই বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ভাঙ্গন রোধে সাড়া দিচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ জেলায় আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি। কয়েক দিন ধরে যমুনায় সামান্য করে পানি বাড়ছে। এ পানি বৃদ্ধিতে যমুনার তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরাঞ্চলসহ অনেক স্থানে এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙন স্থানে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া রয়েছে। এ প্রকল্প অনুমোদন পেলে ওই এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।