
ফরিদপুরে সরকারি জমি, পৌরসভার জায়গা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার শহরের গোয়ালচামট এলাকার হাজরাতলায় পৌরসভার প্রায় ২৫ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করা হয়। এসময় ওই জমিতে গড়ে ওঠা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এসকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা কবির চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ওই জমি অবৈধভাবে দখলে রেখে ব্যবহার করে আসছিলেন। অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদ করে জমিটি দখলমুক্ত করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মো. হাই জকী, ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম, পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শরিফুল হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) লাইজিং হোসেন রাজু, হিসাবরক্ষক কৃষ্ণ কুমার সাহা ও কনজারভেনসি পরিদর্শক বিকাশ দত্তসহ পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পৌরসভার জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে সরকারি জমি, হাসপাতাল এলাকা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দিনব্যাপী পৃথক অভিযান চালানো হয়। সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে সওজের সরকারি জমি ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকা হয়ে ভাঙ্গা সড়কের মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় হাসপাতাল চত্বরের অস্থায়ী দোকানপাট ও সওজের জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই দিন বিকালে পৌরসভার উদ্যোগে সুপার মার্কেট, চকবাজার, নিউমার্কেটসংলগ্ন এলাকা, ময়রা পট্টি ও মুজিব সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়। ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ও পৌরসভার জমি এবং ফুটপাত অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। উচ্ছেদের পাশাপাশি দখলমুক্ত জায়গাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে পুনরায় দখলের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।