ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কম খরচে লাভ বেশি

চান্দিনায় কলার আবাদ বাড়ছে

চান্দিনায় কলার আবাদ বাড়ছে

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় দিন দিন কৃষকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলা চাষ। কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই তুলনামূলক কম খরচে ও স্বল্প পরিশ্রমে ভালো মুনাফা পাওয়ায় অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে বাড়ির আশেপাশের পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জমিতে নামমাত্র পুঁজি বিনিয়োগ করেই ভাগ্য বদলের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন স্থানীয় অনেক সাধারণ মানুষ।

সামান্য যত্ন আর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলেই অল্প সময়েই এই খাত থেকে অর্জিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা তাদের জীবনের চাকা ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

এই সম্ভাবনাময় কলা চাষের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চান্দিনার মেহার গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম। তার বাড়ির পাশে একটি জায়গা প্রায় সারা বছরই পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে থাকত, যা কোনো কাজেই ব্যবহৃত হতো না। একদিন তিনি উদ্যোগ নিয়ে মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ করে সেখানে কিছু কলার চারা রোপণ করেন। সামান্য এই বিনিয়োগ থেকেই আজ তিনি নিয়মিত মোটা অংকের টাকা রোজগার করছেন। বর্তমানে তার সেই ছোট্ট বাগান থেকে প্রায় প্রতিদিনই এক-দুটি করে কলার কাঁদি বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠছে।

উৎপাদিত এই কলার বাজারদর বেশ আশাব্যঞ্জক হওয়ায় মফিজুলের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতিটি কলার কাঁদি পাইকারি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ খুচরা বাজারেও চাহিদার কমতি নেই, প্রতি হালি কলা এখন গুণমানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে।

ভালো দাম পাওয়ায় নিজের অদম্য প্রচেষ্টায় আজ অত্যন্ত সন্তুষ্ট মফিজুল ইসলাম। তিনি জানান, যে জায়গাটি একসময় অযত্নে পড়ে থেকে কোনো উপকারে আসত না, সেখান থেকেই এখন নিয়মিত একটি ভালো অংকের আয় আসছে। তিনি মনে করেন, যাদের বাড়ির পাশে এরকম অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত জায়গা রয়েছে, তারা অবহেলায় না রেখে সেখানে কলা চাষ শুরু করলে খুব সহজেই লাভবান হতে পারবেন। মফিজুল ইসলামের এই ঝুলন্ত সফলতা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এলাকার অন্য কৃষকরাও। ঠিক তেমনি একজন কৃষক হলেন একই গ্রামের শামসুল হক। তিনি মফিজুলের কলার বাগানের সাফল্য দেখে নিজের পরিত্যক্ত জমিতেও একইভাব কলার চারা লাগিয়েছেন। যদিও তার বাগান থেকে এখনো কলা বিক্রি করা শুরু হয়নি, তবুও পরিচর্যার সুবাদে এখন তার পুরো বাগানজুড়ে ঝুলছে কাঁদি কাঁদি সতেজ কলা। বাগানের কলার চমৎকার ফলন দেখে ভীষণ আশাবাদী শামসুল হক জানান, আর মাত্র কিছুদিন গেলেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাতকরণ শুরু করতে পারবেন।

তিনি আশা প্রকাশ করছেন, বাজারে কলার বর্তমান ভালো বাজারমূল্য বজায় থাকলে তিনি প্রথম চালানেই বিশাল অংকের লাভের মুখ দেখবেন। চান্দিনার মেহার গ্রামের এই দৃশ্যটি এখন শুধু দু-একজন কৃষকের গল্পে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি স্থানীয় পুরো কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটিয়েছে। কলা চাষে একদিকে যেমন জমির অপচয় রোধ হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। চান্দিনার কৃষকদের এই সহজ ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সঠিক চিন্তা আর সামান্য শ্রম দিলে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাটিও হয়ে উঠতে পারে সোনা ফলার ক্ষেত্র।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত