
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের পর মাইক্রোবাসে ধর্ষণের দায়ে দুই তরুণকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের পৃথক ধারায় জরিমানাও করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাকান্দি মহল্লার মোহন বিশ্বাস (২৬) ও তায়েব মাতুব্বর (২৭)। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অপহরণের দায়ে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই ধারায় দেওয়া সাজা আসামিরা একইসঙ্গে ভোগ করবেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার একটি গ্রামের ওই কিশোরীকে বাড়ির পাশ থেকে মুখে রুমাল চেপে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। আসামি মোহন বিশ্বাস ও তায়েব মাতুব্বর তাকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যান। পরে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও মুনসুরাবাদ এলাকার মহাসড়কে চলন্ত মাইক্রোবাসে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে কিশোরীকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যান।
পরদিন ৯ আগস্ট কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ মণ্ডল ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।