প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
একটি সমাজ কতটা মানবিক, তার অন্যতম মাপকাঠি হলো- সেই সমাজ প্রবীণ নাগরিকদের কতটা সম্মান, নিরাপত্তা ও যত্ন দিতে পারে। জীবনের দীর্ঘ সময় পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রাখার পর বার্ধক্যে একজন মানুষ যেন আর্থিক অনিশ্চয়তা, একাকিত্ব, অসুস্থতা কিংবা অবহেলার শিকার না হন— এ দায়িত্ব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সবার। এ বাস্তবতায় প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণীতে বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ, 'ফ্যামিলি কার্ড'- এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সামাজিক সুরক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। প্রবীণদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয়। তবে বার্ধক্যের নিরাপত্তা শুধু ভাতা বা আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন এবং অনেকের নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের প্রয়োজন হয়। তাই প্রবীণদের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জটিল রোগের চিকিৎসায় বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে প্রবীণদের সামাজিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে হবে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্ব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগের অভাব অনেক প্রবীণের জীবনকে কঠিন করে তোলে। কমিউনিটি পর্যায়ে প্রবীণদের জন্য মিলনকেন্দ্র, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম এবং প্রজন্মের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে সমাজের কাজে ব্যবহার করার ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত প্রবীণদের কাছে পৌঁছানো এবং এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। ভাতা বা অন্যান্য সহায়তার তালিকা হালনাগাদ, সহজ আবেদনব্যবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র, একাকী ও অসহায় প্রবীণদের প্রতি বিশেষ নজর প্রয়োজন।
প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন; তারা আমাদের পরিবার, ইতিহাস ও অভিজ্ঞতার জীবন্ত ভাণ্ডার। তাদের প্রতি সম্মান দেখানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষারও অংশ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে বার্ধক্য অনিশ্চয়তার নয়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সময় হয়ে ওঠে।