ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চান্দিনায় সবজির বহুমুখী চাষে সাফল্য

চান্দিনায় সবজির বহুমুখী চাষে সাফল্য

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মেহার গ্রাম। সবুজ গাছগাছালি ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ছড়িয়ে থাকা এক শান্ত জনপদ। গ্রামটিতে পা ফেলতেই মেঠোপথের ধারে চোখে পড়ে এক খণ্ড জমি, যা কেবল সবুজ ফসলে নয়, ভরপুর একজন কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সম্ভাবনার রঙে। সেই জমির মালিক কৃষক বিল্লাল হোসেন। নিজস্ব মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে তিন থেকে চার রকমের সবজি চাষ করে তিনি এখন নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি মেহার গ্রামে এক অনুকরণীয় কৃষি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিল্লাল হোসেনের জমিতে গেলে যে কারোরই চোখ জুড়িয়ে যাবে। একপাশে উঁচু বাশের মাচায় ঝুলছে তরতাজা লাউ আর চুকাই। অন্যপাশে ছড়ানো রয়েছে দুই জাতের শিম গাছ। জমিটির আরেক প্রান্তে যত্ন করে সারি বেঁধে লাগানো হয়েছে ফুলকপির চারা। একই জমিতে একসাথে একাধিক ফসল ফলানোর এই কৌশল একদিকে যেমন জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে বিল্লাল হোসেনকে এনে দিয়েছে ধারাবাহিক আয়ের সুবিধা।ইতোমধ্যে ক্ষেতের প্রথম ধাপের ফসল বাজারজাত করা শুরু করেছেন বিল্লাল হোসেন। মাচা থেকে বড় বড় লাউ কেটে স্থানীয় বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বিক্রি করছেন চুকাই। সবজির বর্তমান বাজার দর নিয়ে বিল্লাল হোসেন অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তিনি জানান, জমি থেকে তোলা প্রতিটি লাউ পাইকারি হিসেবে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাচায় ঝুলতে থাকা সবুজ লাউগুলো যেন তাঁর কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিল্লাল হোসেনের ক্ষেতের চুকাই শাকের চাহিদা ও বিক্রিও মন্দ নয়। চুকাই গাছের তিন থেকে চারটি ছোট ছোট চিকন ডাল একসঙ্গে বেঁধে আঁটি তৈরি করা হয়। বাজারে এই প্রতি আঁটি চুকাই বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। স্বল্প খরচে উৎপাদিত এই শাক স্থানীয় মানুষের খাবারের পাতে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি কৃষকের পকেটে নিয়মিত নগদ টাকা এনে দিচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে এই দুটি ফসল বিক্রি করে বেশ ভালো অঙ্কের আয় জমা হচ্ছে তাঁর হাতে।

শুধু লাউ বা চুকাইতেই থেমে নেই বিল্লাল হোসেনের সবজি বিপ্লব। তাঁর জমিতে রোপণ করা দুই জাতের শিম গাছে এখন নতুন জীবনের ছোঁয়া লেগেছে। গাছে থোকা থোকা ফুল ফুটতে শুরু করেছে, এসেছে ছোট ছোট কাঙ্ক্ষিত ফলও। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শিম তোলা শুরু হবে এবং বাজারে বিক্রি করার মতো উপযোগী হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, জমির শেষ প্রান্তে যত্ন নিয়ে গড়ে তোলা ফুলকপির ক্ষেতেও নতুন আশা তৈরি হয়েছে। যদিও ফুলকপি গাছে এখনো কলি আসেনি, তবে গাছগুলোর সতেজ ও সজীব চেহারা দেখে বিল্লাল হোসেন নিশ্চিত যে আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই শুভ্র ফুলকপির কলি বা ফুল দেখা দেবে। তখন লাউ ও চুকাইয়ের পর শিম ও ফুলকপি থেকে বড় অঙ্কের আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। একখণ্ড জমিতে এমন বৈচিত্র্যময় বহুমুখী সবজি চাষ চান্দিনার কৃষি ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দিকনির্দেশনা। একক ফসলের ওপর নির্ভর না করে একই সাথে একাধিক সবজি চাষের ফলে এক ফসলে লোকসান হলেও অন্য ফসল দিয়ে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিল্লাল হোসেনের এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করেছে যে সঠিক পরিকল্পনা, সুষম পরিচর্যা এবং অধ্যবসায় থাকলে অল্প জমিতেও দারুণ কৃষি সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। মেহার গ্রামের সবুজ এই মাঠ আজ কেবল বিল্লাল হোসেনের স্বপ্ন পূরণের ঠিকানা নয়, তা আশেপাশের অনেক সাধারণ কৃষকের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত