
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি সবুজ ও সতেজ শাকসবজি। নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে উপজেলাজুড়ে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় চাষিরা। বিশেষ করে ফুলকপি ও টমেটো চাষে এবার ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিগন্তজোড়া মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে ফুলকপির সবুজ পাতা এবং টমেটো গাছের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং যথাযথ যত্ন নেওয়ায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ও ভালো মুনাফার আশা করছেন এই অঞ্চলের কৃষক সমাজ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা শুধু একটি নির্দিষ্ট সবজির ওপর নির্ভর না করে একই সাথে একাধিক লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। অনেক কৃষক একই সাথে ফুলকপির পাশাপাশি টমেটো চাষ শুরু করেছেন। আগাম জাতের এসব সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়, এমন চিন্তা থেকেই তারা নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেতে পানি দেওয়া, নিড়ানি দেওয়া এবং পোকামাকড় দমনে ব্যস্ত থাকছেন চান্দিনার সবজি চাষিরা।
উপজেলার মেহার গ্রামের ছবিটাও ঠিক তেমনই উদ্দীপনাময়। মেহার গ্রামের পরিশ্রমী চাষি শাহজালাল জানান, তিনি চলতি মৌসুমে তাঁর ৩০ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। চারা রোপণের পর থেকে উপযুক্ত যত্ন ও সঠিক পরিচর্যার কারণে খেতের প্রতিটি গাছ বেশ পুষ্ট ও সবুজ হয়ে উঠেছে। যদিও এখনও ফুলকপির ফলন পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবে গাছের বৃদ্ধি দেখে তিনি আশাবাদী যে আর কিছুদিন পরই বাজারজাত করার মতো ফুলকপি উঠতে শুরু করবে। তিনি আশা প্রকাশ করছেন, বাজারে প্রথম দিকে নতুন ফুলকপির ভালো চাহিদা ও দাম দুই-ই পাওয়া যাবে।
একই গ্রামের আরেকজন সফল কৃষক জামাল উদ্দিনও পিছিয়ে নেই। তিনি তাঁর ৩০ শতাংশ জমিতে শুরু করেছেন টমেটোর চাষ। জামাল উদ্দিনের টমেটো খেতের সার্বিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। গাছে গাছে সতেজ পাতার মেলবন্ধন ও সঠিক পরিচর্যার ফলে খেত জুড়ে যেন এক দারুণ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলার সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, যারা জামাল উদ্দিনের চেয়েও আগে টমেটোর চাষ শুরু করেছিলেন, তাদের গাছের অবস্থা আরও এক ধাপ এগিয়ে। সেসব আগেভাগে চাষ করা খেতের গাছে এরমধ্যেই কাঁচা-পাকা টমেটো ঝুলতে শুরু করেছে এবং তারা বাজারে গিয়ে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে ভালো দামে বিক্রিও করতে পারছেন।
অন্যদিকে, কিছু এলাকায় যারা তুলনামূলক একটু দেরিতে টমেটো চারা রোপণ করেছেন, তাদের খেতে এখনও ফলন পুরোপুরি না এলেও গাছে প্রচুর পরিমাণে হলুদ ফুল এসেছে। প্রতিটি গাছে ফুলের সমারোহ নির্দেশ করছে যে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই খেতগুলো লাল-সবুজ টমেটোতে ভরে উঠবে। বিলম্বে চাষ করা চাষিরাও হতাশ নন, তারা নিয়মিত যত্ন নিচ্ছেন যাতে গাছগুলো সুস্থ থাকে। তাদের আশা, আগের চাষিদের পর তারাও যখন বাজারে টমেটো নিয়ে আসবেন, তখন বাজারে সবজির চাহিদা বজায় থাকবে এবং তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন না।
সব মিলিয়ে চান্দিনার মাঠগুলোতে এখন কৃষকের স্বপ্নের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মাঠে মাঠে পরিচর্যা, পানি সেচ ও তদারকিতে মেতে থাকা কৃষকদের মুখে এখন নতুন আশার হাসি। ফুলকপি ও টমেটো চাষে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে উপজেলার চাষিরা শুধু নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন না, বরং জেলাজুড়ে আগাম সবজির ঘাটতি পূরণেও বড় ভূমিকা রাখবেন। কঠোর পরিশ্রমের এই ইতিবাচক ফল চান্দিনার অর্থনৈতিক চিত্রে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সবাই।