
সিরাজগঞ্জে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে আগাম শীতকালীন ক্ষীরা চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা। এ চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকেরা। এরমধ্যেই হাইব্রিড জাতের নতুন ক্ষীরা বাজারে উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জে এবার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আগাম ক্ষীরা চাষাবাদে প্রায় ৩ শতাধিক হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকেরা এরমধ্যেই প্রায় ২'শ হেক্টর জমিতে খরিপ-২, দেশি ও হাইব্রিড জাতের ক্ষীরার বীজ রোপণ করেছে এবং আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এ বীজ রোপণ শেষ হবে। শস্যভান্ডার খ্যাত উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ উপজেলা এবং কামারখন্দ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলাসহ চরাঞ্চলে বেশি ক্ষীরা চাষাবাদ হচ্ছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানে, নদী, খাল, বিল, বাড়ির আঙ্গিনা, পুকুরপাড় ও পতিত জমিতেও ক্ষীরা চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নারীরাও ক্ষীরা বাগান চাষে পরিচর্যা করছেন। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, এ লাভজনক ক্ষীরা চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় তারা ঝুঁকছেন। বিশেষ করে যমুনার তীরবর্তী চৌহালী, বেলকুচি, শাহজাদপুর, কাজিপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে প্রায় ২ মাস আগেই আগাম ক্ষীরা চাষ শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলে উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের ক্ষীরা এরমধ্যেই বাজারে উঠছে এবং দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। বর্তমানে প্রতি কেজি ক্ষীরা গড়ে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্ষীরা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এতে এবার শীতকালীন আগাম হাইব্রিড জাতের ক্ষীরা চাষে বেশি লাভবান হওয়ার আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, চরাঞ্চলে প্রতিবছরই আগাম হাইব্রিড ক্ষীরা চাষে বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। এবারও বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শীতকালীন আগাম ক্ষীরা চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের শস্যভান্ডার খ্যাত চলনবিল এলাকার তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলাসহ চরাঞ্চলে বেশি ক্ষীরা চাষাবাদ করা হচ্ছে এবং এরমধ্যেই হাইব্রিড জাতের নতুন ক্ষীরা বাজারেও উঠছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা এখন খুশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।