ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সময় গেলে সাধন হবে না

মো. রুহুল আমীন খান
সময় গেলে সাধন হবে না

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পরে কতিপয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উড়ুউড়ু ভাব কাজ করে। পড়াশোনায় তাদের মন বসে না। নতুন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, যেখানে সেখানে ঘুরাঘুরি করা তাদের নিত্যদিনের কর্ম হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে পড়াশোনা শিক্ষার্থীদের কাছে গৌণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পড়াশোনা বাদ দিয়ে তারা রাতে ইউটিউব, টিকটক ও ফেইসবুকে মগ্ন থাকে। ক্লাসে পড়া না পারা, অনর্থক কথা বলা, মেয়েদের বিরক্ত করা কতিপয় ছাত্রের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ক্লাস করার চেয়ে বন্ধুর জন্মদিন পালন করা তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন কাজের জন্য ক্লাস মিস করতে তারা দ্বিধাবোধ করে না। শিক্ষকদের শাসন, পড়াশোনার প্রতি তাগিদ তাদের কাছে বিরক্তিকর ও নিষ্প্রয়োজন মনে হয়। উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ কলেজগুলোতে এমন দৃশ্য বিদ্যমান। এমন কতিপয় শিক্ষার্থী আছে, যারা কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়; কিন্তু কলেজে আসে না। ক্লাস করে না। বন্ধু বা বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। অভিভাবকরা এ ব্যাপারে তেমন সচেতন না। তারা তাদের কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আর আশা করেন, সন্তান বড় হয়ে সরকারি চাকরি করবে। পরিবারের হাল ধরবে...।

উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ভালো ফলাফল জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর উপর নির্ভর করে পরবর্তী গন্তব্যস্থল কোথায় হবে। ফলাফল ভালো না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস থাকবে না। আবার ভালো ভার্সিটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করার সুযোগও পাওয়া যাবে না। জীবনে ভালো কিছু করার স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে, জীবনে ভালো কিছু করতে হলে এখন থেকেই একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে। অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না। সময়ের কাজ সময়মতো করতে হবে। সময় গেলে শত চেষ্টা করলেও তা কোনো কাজে আসবে না। বাউল সম্রাট লালনের ভাষায়,‘সময় গেলে সাধন হবে না।’

শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট না করলে তার দায় অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় । যা ‘উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার মতো।’ শিক্ষক শত চেষ্টা করেও কিছু শিখাতে পারবে না, ভালো রেজাল্ট করাতে পারবে না, যদি শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী না হয়। নিজ থেকে চেষ্টা না করে। কথায় আছে, ‘যে ঘুমিয়ে থাকে তাকে ডেকে জাগানো যায়। কিন্তু যে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকে তাকে শতবার ডেকেও জাগানো যায় না।’ পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল শিক্ষার্থীদের সারাবছরের কর্মফল। এজন্য শিক্ষক আংশিকভাবে দায়ী হতে পারেন; পুরোপুরি ভাবে নয়। পাঠদানকালে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, ক্লাসে অনর্থক হাসাহাসি করে অন্য শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করা, শিক্ষককে বিরক্ত করা- একজন ভালো ছাত্রের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। ক্লাসে অন্যের মনোযোগ নষ্ট করার অধিকার কোনো শিক্ষার্থীর নেই।

দুষ্টমির একটা সীমা আছে। কখনও সেই সীমা অতিক্রম করা যাবে না। তাই ভালো শিক্ষার্থী হতে হলে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। কখনও কোনো অবস্থাতেই এমন কাজে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না। শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। সংস্কৃত একটি প্রবাদ আছে, ‘ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ’ অর্থাৎ অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা বা প্রধান কাজ। তাই এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হলে অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয় কাজ ত্যাগ করে পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। অন্যথায় সারাজীবন অনুশোচনায় দগ্ধ হতে হবে।

মো. রুহুল আমীন খান

প্রভাষক, ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজ, গাজীপুর

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত