প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিসরেও তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়। কারণ এতে প্রমাণ হয় যে, সিদ্ধান্তটি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, কোনো একক গোষ্ঠী বা ক্ষমতাকেন্দ্রের ইচ্ছায় নয়। এটি কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী মত ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্য: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় মানেই ‘না’ ভোটের গুরুত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়- এমনটি নয়। বরং একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী মতের গুরুত্ব স্বীকার করাই ভারসাম্য রক্ষার শর্ত। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলেও ‘না’ ভোটদাতাদের উদ্বেগ, আশঙ্কা ও যুক্তিগুলো ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এতে গণভোট-পরবর্তী সময়েও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা : গণভোটের মাধ্যমে যখন জনগণ দেখে যে তাদের রায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় এই আস্থাকে আরও দৃঢ় করে, কারণ জনগণ বুঝতে পারে- তাদের মতামত শুধু প্রতীকী নয়, কার্যকরও। এই আস্থা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সংহতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়- গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় কোনো আবেগনির্ভর রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিণতি। এই জয় জনগণের সার্বভৌমত্বকে দৃশ্যমান করে, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করে। তবে একই সঙ্গে এটি দায়িত্বও তৈরি করে- রাষ্ট্রের জন্য যেমন, তেমনি নাগরিকদের জন্যও। নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে বলা যায়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও অবাধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়। এমন গণভোট শুধু একটি সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে না; বরং গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থাকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে।
এম মহাসিন মিয়া
সাংবাদিক ও লেখক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা