ঢাকা সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

গণভোট : আগামী বাংলাদেশের শ্বেতপত্র

সাফিয়া ইসলাম দিশা
গণভোট : আগামী বাংলাদেশের শ্বেতপত্র

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই ৫৫ বছরের যাত্রায় দেশ ও দেশের মানুষ দেখেছে অনেক উত্থান-পতন। দেশ সয়েছে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝাট। তবু এই স্বাধীনতা আমাদের শেখায় মাথা নোয়াবার নয়। অধিকার, গণসচেতনা, কার্যকরী পদক্ষেপ, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ, গণতন্ত্রের মাধ্যমে সঠিক ন্যায্য অধিকার আদায় করে নেওয়ার অধিকার দেয় আমাদের স্বাধীনতা। বাংলাদেশ তার ৫৫ বছরের ইতিহাসে সাক্ষী হয়েছে মোট ১২টি নির্বাচনের। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশকে দেখতে হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দেশ শাসন, নির্বাচন, সরকার সংক্রান্ত কথা এলে সঙ্গে এসে যায় গণভোটের কথা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত মোট ৩টি জাতীয় পর্যায়ের গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনিক গণভোট দুটি ও সাংবিধানিক গণভোট একটি। প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালের ৩০শে মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকাজ ও নীতির প্রতি জনগণের আস্তা যাচাইয়ের জন্য। এর ফলাফল ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট। দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ, কারণ ছিল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসন ও নীতির প্রতি জনসমর্থন যাচাই করা। প্রায় ৯৪ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে পড়ে। তৃতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। এই গণভোটের কারণ ছিল সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর অনুমোদন। এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যুস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রবেশ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি হন প্রতীকী প্রধান, প্রধানমন্ত্রী হন নির্বাহী প্রধান। এই গণভোট ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আবারও গণভোট। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে গণভোটের আগেও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৪৭ সালে। মওলানা ভাসানীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে সিলেট জেলা আাসাম হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দেয়, যা বাংলাদেশের জয়ের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটারদের জুলাই সনদ ও সংশ্লিষ্ট সংবিধান সংস্কার সম্পর্কে হ্যাঁ-না ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই মর্মে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করা হয়েছে। কিন্তু আসন্ন গণভোট সম্পর্কে কতটা জানে দেশের সাধারণ মানুষ?

২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৬টি সংস্কার কমিশন গঠন করেন। এর মধ্যে ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন, দুদক সংস্কার কমিশন, বিচারবিভাগ সংস্কার কমিশন ইত্যাদি। এই ৬টি কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের আলোকে মূলত সংস্কারগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।

যার মধ্যে অন্যতম সংবিধান সংস্কার। এই ৬টি সংস্কার কমিশনের সমন্বয়ে গঠন করা হয় ঐকমত্য কমিশন। যার কাজ ছিল সংস্কার সম্পর্কে রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে একমত হওয়া। এরই আলোকে রচিত হয় ‘জুলাই সনদ’ যার সংস্কার প্রস্তাবের ধারা ৮৪টি। সরকার এই ৮৪টি সংস্কারের উপর গণভোট গ্রহণ করতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন জনগণকে প্রার্থী ভোটের পাশাপাশি একটি আলাদা ব্যালটে এই ৮৪ টি প্রস্তাব সমর্থন কিনা এই সিদ্ধান্তে হ্যাঁ-না ভোট দিতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে নাগরিকরা প্রতক্ষ্যভাবে তাদের মতামত প্রদান করবে যে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন হবে কি না।

সাফিয়া ইসলাম দিশা

শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত