ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ফাঁকা নগরীতে নিরাপত্তা শঙ্কা

সাফায়াত বিন নাসির
ফাঁকা নগরীতে নিরাপত্তা শঙ্কা

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রতি বছর ঈদের সময় মানুষ ছোটেন নাড়ির টানে। প্রায় এক হতে দেড় কোটি মানুষ এ সময় ঢাকা ছাড়েন। এ বছর শবেকদর, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে প্রায় ৭ দিনের লম্বা ছুটি পাচ্ছেন নগরবাসী। আনন্দচিত্তে অনেকে রওনাও দিয়েছেন বাড়ির পথে, এ সময় ঢাকাবাসীও একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন ফাঁকা ঢাকা উপভোগ করতে পেরে। এ সময় আনন্দের মধ্যে কপালে ভাঁজ ফেলছে ফাঁকা নগরে নিরাপত্তা যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। প্রতি বছরই এ সময় বাড়ে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই সহ নানা অপরাধ। যেহেতু এ সময় বাসা বাড়ির পাশাপাশি স্বর্ণালংকারের দোকানে ডাকাতি বেড়ে যায় তাই চুরি ডাকাতি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তবে এবার ঈদে নগরীর নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী ফাঁকা ঢাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে এবার পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। যেহেতু ৭ দিনের লম্বা ছুটি ঘিরে অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়বেন এ সময় অনেক বাসাবাড়ি, ফ্ল্যাট ও অফিস ফাঁকা হয়ে যাবে।

তাই অপরাধের শঙ্কাকে বিবেচনায় নিয়ে ঈদের আগে ও পরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছ ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঈদে বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিজ দায়িত্বে নিশ্চিত করতে উদ্ধুদ্ধ করেছেন এবং সার্বিক সহযোগিতায় থাকবে পুলিশ। নগরবাসীর প্রতি তার পরামর্শ ঈদুল ফিতরে ঢাকা ছাড়ার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে আত্মীয়স্বজনের কাছে রেখে যাওয়া অথবা নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়া।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাশাপাশি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির নাগরিকদের ও মালিকদের রয়েছে করণীয়, করতে হবে নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা জোরদার ও সতর্কতা অবলম্বন। তালার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং মূল্যবান সামগ্রী ও কাগজপত্র আলমারিতে তালাবদ্ধ করতে হবে। যারা প্রিয়জনদের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন তাদেরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দরজা-জানালা সঠিকভাবে বন্ধ করতে হবে, মূল্যবান সামগ্রী যেমন- নগদ টাকা, স্বর্ণলংকার ও ডিজিটাল গ্যাজেট নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে, প্রয়োজনে বিশ্বাস যোগ্য কারো কাছে বা নিকটস্থ থানায় জমা রাখতে হবে। ফাঁকা বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি অন্ধকার রাখা যাবে না। সাধারণত দুষ্কৃতকারীরা অন্ধকার বাসা বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে থাকে। তাই নিয়মিত আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। রওনা দেবার আগে প্রয়োজনে প্রতিবেশী বা নিরাপত্তা কর্মীকে জানিয়ে যেতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়াতে হবে চেকপোস্ট ও জোরদার করতে হবে টহল। স্পর্শকাতর স্থান, সড়ক, স্থাপনা, বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত টহল দিতে হবে ও সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। বাড়াতে হবে গোয়েন্দা নজরদারি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এবার সর্বক্ষণ নিয়োজিত থাকবেন কর্মকর্তারা। ঈদের সময় প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। তাদের নিরাপদে বন্দর টার্মিনালে পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে, মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। যাত্রী ও নাগরিকদেরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং নিরাপত্তা শঙ্কা দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।

ঈদ মানে আনন্দ ও পারস্পরিক মেলবন্ধন। সব নিরাপত্তা শঙ্কা, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তাকে পাশ কাটিয়ে ঈদের আনন্দ ছড়িকে পড়ুক সবার মধ্যে।

সাফায়াত বিন নাসির

শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত