প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৬ জুন, ২০২৬
মানুষের জীবন নিয়ে অসাধু চক্রের এক ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর মরণখেলা দেখা যাচ্ছে দেশের মাছ বাজারে। অধিক মুনাফার লোভে চিংড়ির ওজন ও আকার বাড়াতে সিরিঞ্জের মাধ্যমে পুশ করা হচ্ছে বিষাক্ত সিলিকা জেলি। সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের অভিযানে জেলিমিশ্রিত বিপুল পরিমাণ চিংড়ি জব্দ ও জরিমানার ঘটনা আমাদের জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে দাঁড় করিয়েছে। ৪ কেজি চিংড়ির মধ্যে ৩ কেজিই জেলি পাওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ও ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনাও জানা গেছে। বাজারে চকচকে ও আকর্ষণীয়ভাবে দেখানোর আড়ালে ক্রেতাদের পাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ভয়ানক বিষ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৃত্রিম কেমিক্যাল ও সিলিকা জেলি মানুষের পাকস্থলী হজম করতে পারে না। দীর্ঘদিন এই বিষাক্ত জেলি শরীরে প্রবেশ করলে তা রক্তে মিশে কিডনি বিকল করে দেয় এবং ক্যান্সারের মতো দূরারোগ্য ব্যাধির সৃষ্টি করে। খাদ্যে এ ধরনের ভেজাল শুধু একটি সাধারণ অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, বরং এটি পরিকল্পিতভাবে একটি জাতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার শামিল।
দুর্ভাগ্যবশত, দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কঠোর আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার যথাযথ ও নিয়মিত প্রয়োগের অভাব স্পষ্ট। শুধু মাঝেমধ্যে কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বা জরিমানা করে এই সংঘবদ্ধ অসাধু চক্রকে থামানো সম্ভব নয়। কারণ, শাস্তির মাত্রা অপরাধের ভয়াবহতার তুলনায় নামমাত্র। প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আড়ত থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত যে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা উপড়ে ফেলতে স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অবিলম্বে এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ল্যাব টেস্টের পরিধি বাড়িয়ে বাজারগুলোয় নিয়মিত কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। ভোক্তাসাধারণকেও সচেতন হয়ে চিংড়ি কেনার সময় মাথা ও খোলসের সংযোগস্থল পরীক্ষা করতে হবে। মানুষের জীবন নিয়ে এই মরণখেলা আর চলতে দেওয়া যায় না। একইভাবে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। খাদ্যে ভেজাল রোধে সরকার, প্রশাসন ও সমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।