প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৩ জুলাই, ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র অভিঘাতে আষাঢ়ের শেষে ও শ্রাবণের শুরুতে বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম দ্বিতীয় সপ্তাহে, বিশেষ করে ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত, দেশজুড়ে রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশের ৮টি বিভাগে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি জনপদে একনাগাড়ে ৪৪ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২১৪ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বর্ষণ হয়েছে। এই আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্কারী বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং প্রায় ১০টিরও বেশি জেলা আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।
বিগত কয়েকদিনের অতি বর্ষণে দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রস্থল ঢাকা বিভাগের রাজধানী ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও সাভারসহ মোট ১৩টি জেলা তীব্র জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। ঢাকায় মাত্র তিন ঘণ্টায় ১৫ মিলিমিটার এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৮৮ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যার ফলে মিরপুর, ধানমন্ডি ও পুরান ঢাকার নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরসহ সবকটি জেলায় বৃষ্টিপাত আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ ২১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এই অতি ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিককে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এবং নগরীর অধিকাংশ সড়ক সাগরে রূপ নিয়েছে। অতি বর্ষণে চট্টগ্রাম জেলার সন্দীপ এবং নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলে রেলপথ তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ট্রেন যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত এই বিভাগের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক শত কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা এবং তৎসংলগ্ন কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া, চকরিয়া ও মহেশখালী পাহাড়ি জনপদে অতি বর্ষণের ফলে মাটি নরম হয়ে কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ভূমিধস ঘটেছে, যাতে নারী ও শিশুসহ এরই মধ্যে প্রায় ২৬ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাহাড়ের পাদদেশে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি ঝর্ণা ও মাতামুহুরী, সাঙ্গু এবং বাঁকখালী নদীর পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এই অঞ্চলে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় হাওরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আকস্মিক এই বন্যায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টরের আউশ ধান ও আমনের বীজতলা, যা স্থানীয় কৃষকদের সর্বস্বান্ত করে দেশের সামগ্রিক খাদ্য সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুর জেলায় কংস ও ভোগাই নদীর পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। গত কয়েকদিনে এই বিভাগে গড়ে ৯০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নিচু এলাকার মাছের ঘের ও গবাদিপশুর খামারগুলো বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
রংপুর বিভাগের রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী তিস্তা নদী যেকোনো মুহূর্তে বিপৎসীমা অতিক্রম করার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং নদী অববাহিকার চরাঞ্চলগুলো এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের এই জেলাগুলোতে গত ৭২ ঘণ্টায় গড়ে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় মৌসুমি ফসলের খেত ও গ্রামীণ হাটবাজারগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তিস্তার ভাঙনে নদী তীরবর্তী শত শত পরিবার তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং ত্রাণের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলায় অতি বর্ষণের ফলে অভ্যন্তরীণ বিল ও নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। এই অঞ্চলে গত কয়েকদিনে প্রায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ফসলের মাঠ ও গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামীণ দিনমজুর ও কায়িকশ্রমিকরা কোনো কাজ না পেয়ে চরম খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।
খুলনা বিভাগের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও নড়াইল জেলায় উপকূলীয় জোয়ার ও অতি বর্ষণের যৌথ প্রভাবে বেড়িবাঁধগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। কপোতাক্ষ ও পশুর নদীর অববাহিকায় গড়ে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় লোনা পানির চিংড়ি ঘেরগুলো প্লাবিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীগুলোর পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যপ্রাণী ও স্থানীয় জেলেদের জীবনযাত্রা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
বরিশাল বিভাগের বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও মেঘনা নদীর উত্তাল ঢেউয়ের কারণে উপকূলীয় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই বিভাগে গড়ে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় চরাঞ্চলগুলো জোয়ারের পানিতে নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে। মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়ায় উপকূলের হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোলার চরাঞ্চল ও পটুয়াখালীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকার মানুষ গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
সমগ্র দেশজুড়ে অতি বর্ষণের এই প্রাকৃতিক ও মানবিক সংকট একক কোনো সংস্থার পক্ষে মোকাবিলা করা অসম্ভব, তাই বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে অবিলম্বে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বন্যাকবলিত ১০টি জেলায় আপৎকালীন বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, কালভার্ট এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধগুলো বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সংস্কারের জন্য বিশেষ প্রকৌশলী দল গঠন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকে তাদের পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও নিখুঁত এবং রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহ করতে হবে। সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় এবং স্থানীয় উপভাষায় ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা মোবাইল এসএমএস এবং রেডিওর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রচার করা আবশ্যক। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ উপাত্ত ও স্যাটেলাইট চিত্র স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করতে হবে, যেন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। পাহাড়ি এলাকায় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন, তাদের স্থানীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর বাধ্যতামূলক করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আলো, স্যানিটেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনীর মতো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্ধার কাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। বন্যা দুর্গত জনপদে চুরি, ডাকাতি বা যেকোনো ধরনের মানবিক বিপর্যয় রুখতে দুর্গম এলাকায় পুলিশের বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা জরুরি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং উদ্ধারকর্মীদের আধুনিক সরঞ্জামসহ ভূমিধস ও বন্যাকবলিত স্পটগুলোতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হবে। একই সঙ্গে কোস্ট গার্ডকে উপকূলীয় এলাকার মৎস্যজীবী ও চরাঞ্চলের মানুষদের মূল ভূখণ্ডে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শহরের অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে কালক্ষেপণ না করে কাজ করতে হবে। ঢাকার আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর মহাসড়কের মতো অন্যান্য সব গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বর্জ্য অপসারণ ও পানি নিষ্কাশন পথ সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জরুরিভিত্তিতে নিয়োজিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ওয়ার্ড ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে হবে, যারা সরাসরি দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার, ওআরএস এবং জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেবে।
বন্যাকবলিত এলাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় দুর্গত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে খাতাণ্ডকলম ও মানবিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তরুণ সমাজ ও ছাত্র-ছাত্রীদের এই জাতীয় সংকটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী ছাত্র সংগঠনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ প্রাঙ্গণে ফান্ড বা তহবিল গঠন করে বন্যা দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার ও স্যালাইন সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হবে। নিরাপদ অঞ্চলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বন্যাকবলিত দুর্গম এলাকার সঠিক তথ্য, রক্তের প্রয়োজন কিংবা জরুরি মানবিক সাহায্যের আবেদন প্রশাসনের নজরে আনতে পারে। দুর্যোগকবলিত এলাকার ছাত্ররা তাদের প্রতিবেশী ও বৃদ্ধদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যেতে সরাসরি শারীরিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে সহায়তা করতে পারে।
পরিশেষে আকুল আবেদন, দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে প্রতিবেশী ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং সামাজিক ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। যে সমস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি উঁচু এবং সুরক্ষিত, তাদের উচিত আশ্রয়হীন প্রতিবেশী, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের সাময়িকভাবে নিজের ঘরে আশ্রয় দেওয়া। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থেকে নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব, যা শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। সামর্থ্যবান নাগরিকদের উচিত মুক্তহস্তে দান করে এই মানবিক সংকটে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা।
ড. মো. আনোয়ার হোসেন
প্রাবন্ধিক ও কথা সাহিত্যিক