প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে রাষ্ট্রপতির পদবির আগে 'মহামান্য' এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে 'মাননীয়' শব্দ ব্যবহারের প্রচলন দীর্ঘদিনের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক পরিপত্রে এ প্রচলনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক যোগাযোগ ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতির আগে 'মহামান্য' এবং প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর আগে 'মাননীয়'— এ ধরনের সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। বিষয়টি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দৃষ্টিতে এটি শুধু ভাষা ও সম্বোধনের পরিবর্তন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের ভাষা কখনোই নিছক শব্দের বিষয় নয়। দাপ্তরিক নথিতে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতার কাঠামো এবং প্রশাসনিক সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়। সেই দিক থেকে অতিরিক্ত সম্মানসূচক বিশেষণ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারি যোগাযোগকে আরও সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ব্যক্তি নয়, পদ ও প্রতিষ্ঠানই মুখ্য। রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে নন, তাদের সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কারণে গুরুত্বপূর্ণ। একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ফলে সরকারি নথিতে পদবির সঙ্গে বিশেষণ যুক্ত না করে সরাসরি পদবির ব্যবহার প্রশাসনিক যোগাযোগে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিকতার বার্তা দিতে পারে।
তবে 'মহামান্য' ও 'মাননীয়' বাদ দেওয়ার অর্থ যেন অসম্মান বা সৌজন্যহীনতা হিসেবে দেখা না হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদগুলোর সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই দাপ্তরিক ভাষাকে সহজ ও নিরপেক্ষ করা সম্ভব। বরং পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সৌজন্য প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত বিশেষণ অপরিহার্য নয়।
এ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য তাই শব্দ পরিবর্তনের চেয়েও বড়। সরকারি নথিতে রাষ্ট্রপতির আগে 'মহামান্য' কিংবা প্রধানমন্ত্রীর আগে 'মাননীয়' না লেখা প্রশাসনের ভাষাকে ব্যক্তি-নির্ভর আনুগত্যের সংস্কৃতি থেকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে নিতে পারে। শব্দ বদলই অবশ্য সংস্কারের শেষ কথা নয়। এর পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনে জবাবদিহি, নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। তবেই 'মহামান্য' ও 'মাননীয়' বাদ দেওয়ার এ উদ্যোগ শুধু দাপ্তরিক ভাষার পরিবর্তন না হয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে।