ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা আধুনিক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ তৈরি হয়। এসব বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে, দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়।

এ অবস্থায় বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকদের প্রায় এক দশকের গবেষণায় বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক।

'হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন' প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষণাগারে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হবে, অন্যদিকে দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ইতিবাচক। গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন এক থেকে তিন টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এতে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ বিনিয়োগকে শুধু একটি গবেষণা প্রকল্পের ব্যয় হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে গবেষণাগারে পাওয়া সাফল্যই বাণিজ্যিক সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়।

বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ব্যয়, জ্বালানির গুণগত মান, প্রযুক্তির স্থায়িত্ব এবং পরিবেশগত প্রভাব নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে। বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদিত বায়োক্রুডকে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পরিশোধনপ্রযুক্তি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

গবেষকদের ধারণা, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিস্থাপন এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের সম্ভাব্য সুফল বাস্তবসম্মত পরীক্ষার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা উচিত। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। বাংলাদেশে গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ঘাটতি দেখা যায়। তাই কুয়েটের এ উদ্যোগে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। সফল হলে এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে অবদান রাখবে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের এ সম্ভাবনাকে যথাযথ গবেষণা, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত