প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ এককালের প্রমত্তা ও গর্জমান ব্রহ্মপুত্র নদ আজ যৌবন হারিয়ে মৃতপ্রায়। পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া, নদের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠা এবং প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে এই ঐতিহাসিক নদের নাব্যতা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে উত্তর জনপদের প্রকৃতি ও জনজীবনে নেমে এসেছে এক গভীর শঙ্কা।
জামালপুরসহ কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও শেরপুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই নদের বুকে একসময় বড় বড় স্টিমার, লঞ্চ ও পালতোলা নৌকা চলাচল করত। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং পণ্য আনা-নেওয়ার প্রধান জলপথ ছিল এই নদ। কিন্তু বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের অনেক স্থান হেঁটে পার হওয়া যায়। নদের বুকজুড়ে শুধু বালুচর আর বোরো ধানের ক্ষেত চোখে পড়ে। নদের স্বাভাবিক গভীরতা ও স্রোতধারা হারিয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর দুই তীর উপচে প্লাবিত হয় আকস্মিক বন্যা, আর শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট।
নাব্যতা হ্রাসের ফলে এই জনপদের মৎস্যজীবীরা আজ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী মৎস্যজীবী সম্প্রদায় পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ছাড়া নদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নদীবন্দর ও স্থানীয় হাটবাজারগুলোর জমজমাট ভাব আজ আর নেই। পানির অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কৃষিকাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে উত্তরাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাবে এবং মরুকরণের মুখে পড়তে পারে চারপাশের প্রকৃতি।
ব্রহ্মপুত্র নদ শুধু একটি জলধারা নয়, এটি এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির একটি বিরাট অংশ। ব্রহ্মপুত্রের বুক থেকে পলি অপসারণ বা ড্রেজিং করা, নদের নাব্য পুনরুদ্ধার এবং পরিকল্পিত শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী নদকে বাঁচিয়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। নদের বুকজুড়ে আবারও যদি স্রোত ফিরে আসে, তবেই বাঁচবে উত্তর জনপদের প্রাণ-প্রকৃতি এবং ঘুরে দাঁড়াবে স্থানীয় অর্থনীতি।
ঠিকানা : গ্রাম—নয়াপাড়া, পোস্ট—শাহবাজপুর, থানা ও জেলা—জামালপুর