ঢাকা রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অভিযাত্রা

সোনিয়া তাসনিম
বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অভিযাত্রা

দুই অক্ষরের শব্দ— 'নারী' কিন্তু ব্যাপ্তি বিস্তর। বিশ্বের যেকোনো মঞ্চে তো বটেই, সেইসঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নারীর অংশগ্রহণ ও সক্রিয়তা এখন শুধুই শ্রমশক্তি কিংবা সামাজিক ক্ষমতায়নের আলোচনায় সীমিত করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ঘরের আঙিনায় বসে সুঁই-সুতোর ফোঁড়ে বোনা শিল্পকর্ম হতে, নানা মৃৎশিল্প হতে খাদ্যসামগ্রী বা অনলাইনভিত্তিক সকল প্রকার ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানি; এ সুবৃহৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিশাল পরিসরে নারীর সৃজনশীল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়েছে বিস্তৃত। একটা সময়ে নারীকে যেখানে কেবলই গৃহলক্ষ্মী বলে পরিবারের অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, আজ সেই নারী বিস্ময়করভাবে উৎপাদন, বিপণন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অপরিহার্য অংশীদার হয়ে উঠেছে।

আমাদের দেশের নারী উদ্যোক্তাদের এ সংগ্রাম অভিযাত্রা এক একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, এগুলো মূলত সমষ্টিগতভাবে এক অপার সাফল্য সম্ভাবনার অধ্যায়ের সূচনা। এটি আদতে অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন সর্বোপরি জাতীয় উন্নয়নে নারীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। একথা ঠিক, সম্ভাবনার পাশাপাশি অর্থায়ন, প্রযুক্তি, বাজারসংযোগ, নীতিগত সীমাবদ্ধতা নারীদের অগ্রযাত্রায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালেও দুর্বার নারী তার অপ্রতিরোধ্য গতির ধারাকে থমকাতে দেয়নি কোনোভাবেই। আর এটিই মূলত নারীশক্তির শক্তিমত্তা প্রমাণ করে।

তবে আজকের এই নারী উদ্যোক্তাদের যে সাফল্য, এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প, পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ হতে কৃষিভিত্তিক পণ্য ও সেবামূলক খাতে নারীরা নিজেদের এ দৃঢ় অবস্থান গড়ে নিতে পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘপথ। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসার ব্যবসার প্রচলিত কাঠামোয় এনেছে আমূল পরিবর্তন। জামদানি, নকশিকাঁথা হতে নানা হস্তশিল্প আজ সহজেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালি ও বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এখানে (উই= উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ট্রাস্ট) এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করছে।

ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা, অনলাইন শপ, নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে এখন একজন নারী উদ্যোক্তা ঘরে বসেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতাদের নিকট পৌঁছুতে সক্ষম হচ্ছেন। সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। তবে, এ অনলাইন ব্যবসার সহজ প্রবেশপথকে টেকসই উদ্যোক্তা হওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা বোকামি। কারণ, এসব বিষয়ে পণ্যের দাম, সরবরাহব্যবস্থা, গ্রাহকের আস্থা, নিবন্ধন, ডিজিটাল নিরাপত্তাও অতি গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশান রিপোর্ট ২০২৪ অনুযায়ী, দেশের এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নারীদের মালিকানাধীন ব্যাংক আমানত হিসাবের সংখ্যা ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। ডিজিটাল আর্থিক সেবার এই সম্প্রসারণ নারী উদ্যোক্তাদের লেনদেন, সঞ্চয় ও ব্যবসায়িক অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি আর নারী উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়া কোনোভাবেই এক বিষয় নয়। এ দুইয়ের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এবার আলোচনার পরিধি বিস্তৃত করতে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর দিকে যদি একটু দেখি তবে সেই সময়ের হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ৩ কোটি ৬ লাখের বেশি মানুষের মাঝে নারীর সংখ্যা প্রায় ৫১ লাখ ১৯ হাজার, যা কিনা মোট অংশগ্রহণকারীর ১৬.৭১%। ২০১৩ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৬.৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকেরও অধিক সময়ে অংশগ্রহণ অনুপাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন এই খাতে আসেনি। অপরদিকে, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ২০২৫ সালের এক তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ২৮ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক ৮৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা বর্তমানে বিদ্যমান। তবে, নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানায় নারীর অংশ মাত্র ৭.২ শতাংশ। এসব প্রাপ্ত তথ্যে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, নারী উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ এখনো ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ।

এখন কৌতূহল আসতেই পারে বিশ্ববাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য কোন দিক হতে অনুকূলে? এ কথার প্রথমেই আনতে চাই পোশাকশিল্পের কথা। যেটি বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ বিষয়ক এক প্রতিবেদনে উল্লেখিত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই শিল্পে লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থান উপস্থিত। তবে এই নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ ও নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এক বিষয় নয়। এতে পার্থক্য বিদ্যমান। উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্পের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় তাই নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

তৈরি পোশাকের বাইরে জামদানি, নকশিকাঁথা হতে পাটজাতপণ্য, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, মৃৎশিল্প, হস্তনির্মিত অলংকার, চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবারের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর সম্ভাবনা বিদ্যমান। পরিবেশবান্ধব ও হাতে তৈরি পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

২০২৬ সালের বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প পর্যালোচনায় দেখা যায়, তৈরি পোশাকবহির্ভূত রপ্তানি খাতের ৫৭০টি প্রতিষ্ঠান, যার মাঝে নারী নেতৃত্বাধীন ব্যবসাও বিদ্যমান, তাতে করে এটি নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য সহায়ক হয়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২২টি নতুন দেশে বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মানের ২৬০টি সনদ অর্জনে সহায়তা করা হয়েছে। অবাক লাগছে? আসলেই বিষয়টি অভিভূত করার মতোই বটে। বিস্ময়কর এসব অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার অংশ হতে সক্ষম। আর এমন সব সাফল্য আনয়নে নারী উদ্যোক্তাদের সামনে বর্তমানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ। অনেক নারী পারিবারিক সঞ্চয় কিংবা ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করলেও ব্যাংকঋণ, জামানত ও ব্যবসায়িক নথিপত্রের প্রয়োজন হওয়ায় ব্যবসার পরিসর বাড়াতে কিছু জটিলতার সম্মুখীন হন। স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা না থাকায় অনেক নারী ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন।

মূলত এসব কমতি নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি ও বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু রেখেছে। ২০২৫ সালের নীতিমালায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট সিএমএসএমই ঋণের অন্তত ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চের শেষে নারী উদ্যোক্তাদের হাতে ছিল মোট সিএমএসএমই-এর মাত্র ৭.২৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবধান পরিষ্কার যে, নীতিগত লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তব ঋণপ্রাপ্তির মাঝে একটি বিশাল ফাঁক রয়ে গিয়েছে। আর এসবের পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে সীমিত প্রবেশাধিকার নারীদের অগ্রযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং, রপ্তানির নথিপত্র, পরিবহন ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকা আবশ্যক।

আরও প্রয়োজন সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নারী উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে সহজ শর্তে ঋণ, স্বল্প সুদের অর্থায়ন ও কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণের নিশ্চয়তা। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পণ্য প্রদর্শনী, উৎপাদনকেন্দ্র ও বাজারসংযোগের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পণ্য সনদায়ন, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি। এখানে কতজন নারী ব্যবসা শুরু করছেন, কতজন টিকিয়ে রাখতে সমর্থ হচ্ছেন, কতজন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করছেন, এসবের নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও তা সংরক্ষণ করা জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ব্যতীত এ খাতের প্রকৃত সম্ভাবনা কাজে লাগানো অসম্ভব, এটা মাথায় রাখতে হবে।

নারী উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা সম্প্রসারণেও বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমই ফাউন্ডেশন) পরিচালনায় উই হেল্প (উইমেন এন্টারপ্রেরিনারশিপ হাব ফর অ্যাম্পাওয়ারমেন্ট লিডিং অ্যান্ড প্রোগ্রেস) নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। যেটির মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন, পণ্য প্রদর্শন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, প্রশিক্ষণ, মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মিলন ও ঋণসংযোগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। মূলত, এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন ও জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে নারী উদ্যোক্তাদের স্থানীয় বাজার থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথ আরও সুগম হতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক তথা স্বাবলম্বী হওয়ার অভিযাত্রা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন মানে এখন শুধু ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধি করাকে বোঝায় না, এর সাথে যুক্ত হয়েছে, পরিবারের জীবনমান, সন্তানের শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস ও জাতীয় উৎপাদনশীলতা। একজন নারী উদ্যোক্তা নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্য নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সমর্থ হচ্ছেন। যা সফলতার একটি কমিউনিকেশন চেইন হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশের অভিনব এ উন্নয়ন অভিযাত্রায় নারীরা এরইমধ্যে শ্রম, উৎপাদন ও সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এখন যা প্রয়োজন তা কেবল তাঁদের উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, উদ্ভাবক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলা। ঘরের আঙিনায় তৈরি একটি পণ্য যখন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করবে, তখন কিন্তু সেটি কেবল একজন নারী উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত অর্জন হয়ে থাকে না বরং তা দেশের উৎপাদন সক্ষমতা, সাংস্কৃতিক ঐক্য ও অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাসের একটি প্রতীক ও দলিল হয়ে ওঠে। তাই, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুমুখী ও টেকসই অর্থনীতি নির্মাণের অপরিহার্য শর্ত।

আমাদের দেশের নারী উদ্যোক্তাদের সম্মুখে এখন প্রশ্ন শুধু কী করে ব্যবসা আরম্ভ করা যায় তা নয়, বরং কী করে সেই ব্যবসাকে টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্ববাজারে পরিচিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায় তার সমাধানেই লুকিয়ে। ঘর হতে বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর এ ইতিবাচক সাফল্যযাত্রাই হতে পারে বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

লেখক : কলামিস্ট

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত