
অসুস্থতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তাকে দেখতে তাই ছুটে গেলেন সুচন্দা ও চম্পাসহ চলচ্চিত্রের সহকর্মীরা। সুচন্দা ও চম্পাকে দেখেই যেন চমকে উঠলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তারপর মুখে ফুটে উঠল হাসি। চোখেমুখে দেখা গেল আবেগও। দীর্ঘ অসুস্থতার ক্লান্তি ছাপিয়ে প্রিয় মানুষদের কাছে পাওয়ার আনন্দ যেন তাকে অন্য এক জগতে নিয়ে গেল।
কাঞ্চনের হাতে তুলে দেওয়া হলো ফুলের তোড়া। কে এসেছেন, জানতে চাইলে হাসতে হাসতে সুচন্দা ও চম্পার দিকে তাকালেন তিনি। যেন নাম বলার প্রয়োজনই নেই- এই দুই মুখ তার কাছে বহু পুরোনো, বহু পরিচিত। কথা বলতে বলতে একসময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন কাঞ্চন ও চম্পা। চম্পা বললেন, ‘আমরা আপনাকে ভালোবাসি।’
কাঞ্চনও বললেন, ‘আমিও ভালোবাসি সবাইকে। খুব ভালো লাগছে।’ চম্পা আবার জানতে চাইলেন, ‘কতটা ভালোবাসেন?’ কাঞ্চন তখন দুই হাত প্রসারিত করে বললেন, ‘এতটা ভালোবাসি।’ কথাটা শেষ হতেই ঘরে থাকা সবাই হেসে ওঠে। দীর্ঘ চিকিৎসা, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তার দিনগুলো যেন কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরে গেল।
এরপর সুচন্দা ও চম্পাকে দুই পাশে বসিয়ে একরকম পুরোনো দিনের আড্ডায় মেতে উঠলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। কথার ফাঁকে ফাঁকে ফিরে এল তার কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি। উঠল সুচন্দা প্রযোজিত ‘তিনকন্যা’ ছবির প্রসঙ্গও। যে ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সিনেমার সেই দিনগুলো যেন আবারও ঘরের ভেতর ফিরে এল কথায়, হাসিতে আর স্মৃতিচারণায়।
একপর্যায়ে দুই বোনের অনুরোধে গান ধরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। শুরুতে গাইলেন ‘অচেনা’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘আর যাব না আমেরিকা’। গান গাওয়ার সময় তার সঙ্গে ঠোঁট মেলালেন সুচন্দা ও চম্পা। এরপর আরও কয়েকটি গান শোনালেন তিনি। আড্ডা তখন জমে উঠেছে। হাসি আর কথায় বাড়িটা যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেল দীর্ঘ অসুস্থতার সময়টুকু। এর মধ্যেই একে একে এসে পৌঁছান চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও কয়েকজন।