
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের যাছাই-বাছাই চলছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান। কক্সবাজার-২ আসনে (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) আযাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রথমে স্থগিত রাখা হলেও পরে এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান। তিনি জানান, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার অভিযোগের একটি মামলায় অভিযুক্ত হামিদুর রহমান আযাদ যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে উপযুক্ত কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে আপিল করতে পারবেন। এই আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন যার মধ্যে গোলাম মাওলা নামে আরও এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন- আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (বিএনপি), জিয়াউল হক (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ওবাইদুল কাদের নদভী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), এস এম বোকনুজ্জামান খান (গণঅধিকার পরিষদ), মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম (জাতীয় পার্টি)।
কুমিল্লা-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। গতকাল কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন। অসম্পূর্ণ হলফনামা এবং হলফনামায় প্রয়োজনীয় সব তথ্য উল্লেখ না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। হলফনামায় নাগরিক তথ্যের ঘর পূরণ করা হয়নি এবং প্রার্থী দ্বৈত নাগরিক কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। এসব কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, প্রার্থীর হলফনামা নির্বাচনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হলফনামায় কোনো তথ্য গোপন করা যাবে না, সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। তবে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় নানা অসংগতি রয়েছে। তিনি হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কোনো তথ্য দেননি। হলফনামায় যে এফিডেভিট দিয়েছেন তা সম্পাদনের এক দিন পর তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি। এসব অসংগতির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমান মান্না আপিল করতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে মাহমুদুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক ফোন ধরেননি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার। তিনি বলেন, নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট সম্পাদনের দিনই মাহমুদুর রহমান মান্না স্বাক্ষর করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী একজন প্রার্থীর পক্ষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের চাপে পড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন। তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং নিশ্চিত প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। এদিকে আসনটিতে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ঋণখেলাপি তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি) নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম অন্তর্ভুক্তের কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আইনত কোনো বাধা নেই বলে জানান তাঁর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। আফাকু কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডের অংশীদার মান্না। এই কোল্ডস্টোরেজের নামে ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া শাখা থেকে নেওয়া ঋণ ঘিরে সিআইবি প্রতিবেদনে নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে মান্না হাইকোর্টে রিট করেন। কারণ, ঋণখেলাপি হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকে না।
ডাকসুর দুইবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের একসময়ের নেতা মাহমুদুর রহমান এর আগে একাধিকবার প্রার্থী হলেও কখনও তার সংসদে যাওয়া হয়নি। এবার বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন তিনি। মিত্রদলের নেতা হিসেবে বগুড়া-২ আসনটি তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবশ্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আসনটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের নেতা মীর শাহে আলম।
বরিশালে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, দুইজনের স্থগিত : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বরিশাল জেলায় সংসদীয় ৬টি আসনের মধ্যে প্রাথম ধাপে তিনটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে। বরিশাল সংসদীয় ৪, ৫ ও ৬ আসের মধ্যে বরিশাল সদর ৫ আসন থেকে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়াও বরিশাল সদর ৫ আসনে একজন ও বরিশাল ৬ বাকেরগঞ্জ আসনে একজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেন।
এসময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বরিশালের তিনটি সংসদীয় আসনে গতকাল ২১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। বাতিল হওয়া দুই জনের মধ্যে বরিশাল সদর ৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ কে এম মাহবুব আলম মনোনয়ন পত্রের ২০ নম্বর পাতায় স্বাক্ষর না করা ও ২১ নম্বর পাতা পূরণ না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এছাড়া বরিশাল সদর ৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর দেওয়া ভোটার লিষ্ট ও প্রস্তাব, সমর্থনকারীর তথ্য সঠিক না ধাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এছাড়া আয়কর রিটার্ন সার্টিফিকেট না থাকা, ১০ বি ফরম যুক্ত না থাকা ও ছবি সত্যায়িত না থাকায় বরিশাল ৬ বাকেরগঞ্জ আসনের মুসলীম লীগের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস ও হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, অঙ্গীকার নামায় অসঙ্গতি থাকায় বরিশাল সদর ৫ আসনের বাসদের প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। বাকি ১৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আজ বরিশাল ১,২,৩ সংসদীয় আসনের মনোনয়ন বাছাই করা হবে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন জানান, প্রথম ধাপে তিনটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই করা হয়েছে। এতে দুটি মনোনয়ন বাতিল ও দুটি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ২ প্রার্থী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে তথ্যের গড়মিল থাকায় মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু (স্বতন্ত্র), জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মমিন আলীর (স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শ. ম কামাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নুর হোসাইন নুরানী এবং লেবার পার্টির মো. আনিস মোল্লার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ৫ জন, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে ৭ জন এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর, চট্টগ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল : চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই উপজেলা) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে নানা অনিয়মের কারণে আরও দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে দাখিল করা প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও সাক্ষর পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচনবিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির (জাকের) প্রার্থী মোহা. এরশাদ উল্ল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্রে সাক্ষরের বিষয়ে সাতজন ভোটার স্বাক্ষর প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, যা যাচাই-বাছাইয়ের সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল-রেজি-৪০)-এর শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন, জেএসডির এ কে এম আবু ইউসুফ, জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৪ জানুয়ারির পরবর্তী চার কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটার তালিকায় ১০ জনের ৮ জনের সই জাল! : চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি উপজেলা) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তথ্যে ঘাটতির কারণে আরও তিনজন প্রার্থীকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মনোনয়নপত্র যাচাই করেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার ও আহমদ কবির এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জিন্নাত আক্তারের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে ১০ জনকে যাচাই করা হয়। যাচাইকৃতদের মধ্যে আটজনই স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবিরের ক্ষেত্রে নির্বাচন বিধিমালার ১২ (ক-১) ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব দলীয় মনোনয়নপত্র ও হলফনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। তথ্য ঘাটতির কারণে সময় পাওয়া তিন প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির দুই প্রার্থী শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ ও মো. ওসমান আলী এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসান। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদকে শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই দলের অপর প্রার্থী মো. ওসমান আলী মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন না। তথ্য ঘাটতি থাকায় তাকেও বিকেল ৪টার মধ্যে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসানের মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় স্বাক্ষর দাখিলের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এদিকে, বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরওয়ার আলমগীর এবং জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলীকে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, আগামী ৪ জানুয়ারির পরবর্তী চার দিনের মধ্যে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন।
যশোরে বিএনপি প্রার্থীসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরে আরও দুটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে। এতে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূবসহ পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।
রিটার্নিং অফিস সূত্রে, এদিন সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-৩ (সদর) ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। সদরে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণ খেলাপি ছিলেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৩ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাশেদ খান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) নিজাম উদ্দিন অমিত।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, বিএনপি থেকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে ঋণ খেলাপি রয়েছেন।
টিএস আইয়ূবের প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি যশোরের রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা। তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান ভোটারের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।