ঢাকা শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে নিহত ৭, গ্রেপ্তার ৩০

* সহিংস উপায়ে বিক্ষোভ দমন করলে ইরানে হস্তক্ষেপ করবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প * মার্কিন হস্তক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে নিহত ৭, গ্রেপ্তার ৩০

মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে। এর আগে গত রোববার তেহরানে দোকানিরা মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে বিক্ষোভণ্ডধর্মঘট ঘোষণা করেন। এরপর বিক্ষোভ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানায়, গত বৃহস্পতিবার চাহারমাহাল ও বাখতিরি প্রদেশের লর্দেগান শহরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। ফার্স আরও জানায়, লর্দেগানে বিক্ষোভকারীরা শহরের প্রশাসনিক ভবনগুলোতে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এর মধ্যে প্রাদেশিক গভর্নরের অফিস, মসজিদ, শহিদ ফাউন্ডেশন, টাউন হল ও ব্যাংক ভবনও ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ব্যবহার করে।

আজনা শহরে কিছু মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশকে ব্যবহার করে পুলিশ স্টেশনের ওপর আক্রমণ চালায়। ফার্স তাদের ‘দাঙ্গাবাজ’ বলে উল্লেখ করেছে। আগের প্রতিবাদ আন্দোলনগুলোর সময়েও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবাদকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করে। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, রাতে পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশত শহরে প্রতিবাদ চলাকালে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

লোরেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর সৈয়দ পুরালিকে উদ্ধৃত করে টিভি চ্যানেলটি জানায়, কুহদাশত শহরের ২১ বছর বয়সী বাসিজ সদস্য নিহত হয়েছেন। বাসিজ হলো স্বেচ্ছাসেবী সামরিক বাহিনী, যা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে যুক্ত।

পুরালি বলেন, কুহদাশতে প্রতিবাদের সময় ১৩ জন পুলিশ ও বাসিজ সদস্য পাথর নিক্ষেপে আহত হয়েছেন।পশ্চিমাঞ্চলের হামেদান শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা তাসনিম এটিকে একটি ‘মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়ার’ ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে দেখিয়েছে। একই সংস্থা জানায়, তেহরানের এক এলাকায় গত রাতে ৩০ জনকে জনশৃঙ্খলাবিরোধী অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি ছিল নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান।

সহিংস উপায়ে বিক্ষোভ দমন করলে ইরানে হস্তক্ষেপ করবে যুক্তরাষ্ট্র- ট্রাম্প : শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান যদি গুলি চালায় এবং সহিংসভাবে হত্যা করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করে এগিয়ে আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। এ বিক্ষোভে এরইমধ্যে দেশটিতে কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানে টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা বিক্ষোভের মধ্যে ওই মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার দেশটির একাধিক শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত সাত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ নতুন নতুন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে, মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, এই বিক্ষোভ সরকারের বহু বছরের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণের গভীর ক্ষোভের প্রতিফলন। গত বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ওই অস্থিরতাকে ইরানি জনগণের ‘স্বাভাবিক ক্ষোভের’ প্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকারের ব্যর্থতা ও অজুহাতের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের স্বাভাবিক ক্ষোভের প্রতিফলন এ বিক্ষোভ। তিনি বলেন, ‘তেহরান কয়েক দশক ধরে অর্থনীতি, কৃষি, পানি ও বিদ্যুৎ খাতকে গুরুত্ব দেয়নি, অথচ সন্ত্রাসী প্রতিনিধিগোষ্ঠী ও পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় করেছে।’ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। রাজধানী তেহরান ও ইসফাহান থেকে শুরু করে লোরেস্তান, মাজানদারান, খুজেস্তান, হামাদান ও ফারসসহ এক ডজনেরও বেশি শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা শাসনব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানও দিয়েছেন।

মার্কিন হস্তক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের : ইরানে চলমান বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ না করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছেন তেহরানের শীর্ষ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। গতকাল শুক্রবার দেশটির সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে তা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও ধরনের হস্তক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

এর আগে, গত শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান যদি গুলি চালায় এবং সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করে এগিয়ে আসবে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুমকির বিষয়ে ইরানের সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল এবং আমেরিকার স্বার্থের ক্ষতি করবে।’

গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভে ইতোমধ্যে দেশটিতে কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানে টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা বিক্ষোভের মাঝে ওই মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার দেশটির একাধিক শহরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত সাত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ নতুন নতুন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজধানী তেহরান ও ইসফাহান থেকে শুরু করে লোরেস্তান, মাজানদারান, খুজেস্তান, হামাদান ও ফারসসহ এক ডজনেরও বেশি শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা শাসনব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানও দিয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত