ঢাকা শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

শুধু প্রতিনিধি বাছাই নয় দেশ পুনর্গঠনের লড়াই

বললেন তারেক রহমান
শুধু প্রতিনিধি বাছাই নয় দেশ পুনর্গঠনের লড়াই

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ জীবন দিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে অত্যাচারিত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে। তাদের এই মূল্যায়ন কখনো বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। এবারে নির্বাচন শুধু দেশের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য নয়, এবারের নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। তিনি বলেন, গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। একইভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে অনেকটা পিছিয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে নির্বাচনী গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের যুবক তরুণের যেভাবে কর্মসংস্থান তৈরির ব্যবস্থা করার কথা ছিল, সেভাবে ব্যবস্থা হয়নি। দেশের মা-বোনদেরও সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। দেশের কৃষকদের যেভাবে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার কথা ছিল, সেভাবে তাদের সহায়তা করা হয়নি। তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি কাজ করতে চায়। সে লক্ষ্যেই দলীয় কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

উত্তরাঞ্চলকে কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘবে কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ ছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল, রেশম কারখানা ও চা শিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এসব শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি ও কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত স্থানীয় তরুণদের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে আইটি পার্ক বা আইটি হাব স্থাপন করা হবে, যাতে তারা নিজ এলাকায় থেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গ্রামে গ্রামে ‘হেলথকেয়ার কর্মী’ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। এসব কর্মী মূলত মা ও শিশুদের ঘরে গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেবেন বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া এলাকায় মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের জনদাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্থানীয় বিমানবন্দরটি দ্রুত চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব নাগরিক মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে খেটে খাওয়া মানুষ, ব্যবসায়ী ও নারীরা নিরাপদে চলাচল ও জীবনযাপন করতে পারবেন।

বিএনপি সরকারের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি জয় লাভ করলে আমাদের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। এই এলাকায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠানো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হবে। কিশোরগঞ্জ উপজেলার আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয় বরং জাতিকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। নীলফামারী জেলা কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এ জেলাকে আমরা কৃষি অঞ্চল হাব হিসেবে গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেটা ভোটের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেব। বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড প্রত্যেক কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।

তারেক রহমান আরও বলেন, এই এলাকা কৃষি নির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াব, তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করব। যাতে কর্মসংস্থান হয়। যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা লাগবে।

এ সময়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, নীলফামারী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিনসহ চার আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনে ঢাকার ১৪ স্থানে জনসভা করবেন তারেক রহমান, কবে কোথায় : সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ রোববার তারেক রহমান ঢাকা মহানগর উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে জনসভায় অংশ নেবেন। ঢাকা-১৭ আসনে নিজ নির্বাচনী এলাকা ইসিবি চত্বরে বেলা দুইটায় প্রথম জনসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। এরপর ঢাকা-১৬ আসনে পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে ২টা ৪০ মিনিটে, ঢাকা-১৫ আসনে মিরপুর-১০ গোলচত্বর সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ৩টা ৩০ মিনিটে, ঢাকা-১৪ আসনে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেটে ৪টা ২০ মিনিটে, ঢাকা-১৩ আসনে শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে ৫টা ১০ মিনিটে এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডা সাতারকুলের সানভ্যালি মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

কাল সোমবার তারেক রহমান তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনের মোট আটটি জনসভায় অংশ নেবেন। বেলা ১১টায় ঢাকা-১৭ আসনে বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর খেলার মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। এরপর ঢাকা-১০ আসনে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে দুপুর ১২টায়, ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গী মাজার রোডে বেলা ১টায়, ঢাকা-৯ আসনে মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠে বেলা ২টায়, ঢাকা-৫ আসনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে বেলা ৩টায়, ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে বিকেল ৪টায়, ঢাকা-৬ আসনে ধুপখোলা মাঠে বিকেল ৫টায় এবং ঢাকা-৭ আসনে লালবাগ বালুর মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

বিএনপি নেতারা জানান, এসব জনসভায় তারেক রহমান দলের ঘোষিত ইশতেহার, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য দেবেন। জনসভাগুলো সফল করতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত