
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দিনটিকে জাতির জন্য ‘মহা আনন্দের দিন’ ও ‘মুক্তির দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে আমরা অতীতকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেছি। প্রতিটি ধাপে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের জন্মদিন পালন করি। সারা দেশ দিনভর উৎসব করুক।’ তিনি বলেন, প্রার্থীদের ভোট দেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গণভোটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’ নিজের অনুভূতি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি আমার জীবনের এক মহা আনন্দের দিন। বাংলাদেশের মানুষের জন্যও এটি মহা আনন্দের এবং মুক্তির দিন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আজকের এই যাত্রা অতীতের দুঃস্বপ্নের অবসান এবং নতুন করে পথচলার সূচনা। অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, দেশের মানুষ দিনটিকে জাতীয় উৎসবের মতো করে গ্রহণ করেছে। অনেকেই ঈদের দিনের মতো দিনটি উদ্যাপন করছেন।
নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ভোটগ্রহণ শেষে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব- এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে- জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন ছিল জাতির জন্য আনন্দ ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অভিযাত্রায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।