ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চরমোনাই পীরের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

চরমোনাই পীরের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী রোডে অবস্থিত চরমোনাই পীরের বাসায় যান তারেক রহমান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চরমোনাই পীরের বাসার উদ্দেশে গুলশানের বিএনপি কার্যালয় থেকে বের হন তারেক রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিপুল বিজয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাত করে সৌহার্দ্যের বার্তা দিচ্ছেন তারেক রহমান, যা বিরল ঘটনা। রোববার রাতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।ে তার দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে জয় পেয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও বিকালে মন্ত্রিসভার সদস্য শপথ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের অংশ হয়ে এসব ইসলামপন্থী দল নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিল। এবারই প্রথম একটি আসন পেয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি ইসলামপন্থীদের মধ্যে সর্বাধিক ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ভরাডুবির মুখে পড়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে প্রার্থী দিয়ে জয় পেয়েছে মাত্র একটি আসনে। মোট ভোটের মাত্র ২.৭০ শতাংশ পেয়েছে দলটি। আর প্রার্থীদের ৯৬ শতাংশই রক্ষা করতে পারেননি জামানত। নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে চরমোনাইয়ের আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন ছিল। গণঅভ্যুত্থানের নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে জোট না করে ওই আসনেও প্রার্থী দেয় দলটি।

ফলাফলে দেখা যায়, ওই আসনে নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী পান ৯১,৮৩৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ পান ৪,৩৭৫ ভোট, যা মোট ভোটের ২.২৬ শতাংশ। ফলে তিনি জামানত হারান। নির্বাচন কমিশনের আরপিও অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে দলটি ২৫৭টি আসনে অংশ নেয়।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কোনো আসনেই দলটির প্রার্থীরা জামানত রক্ষা করতে পারেননি। ঢাকা বিভাগে মাত্র একটি আসনে জামানত রক্ষা হয়—নরসিংদী-৫ আসনে ইসলামী সংগীতশিল্পী বদরুজ্জামান উজ্জলের মাধ্যমে। সবচেয়ে বেশি জামানত রক্ষা হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এখানে প্রায় আটটি আসনে জামানত বাঁচাতে সক্ষম হয় দলটি। এর মধ্যে বরগুনা-১ আসনে মাওলানা মাহমুদুল হাসান উলীউল্লাহ ৪৯.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। পটুয়াখালী-৪ আসনে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। দলটির আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের তিন ভাই নির্বাচনে অংশ নিলেও কেউ জয়ী হতে পারেননি। দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে ৯৩,৫২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এখানে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১,৩১,৪৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ফয়জুল করীম ২৮,৮২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। এ আসনে বিএনপির আবুল হোসেন খান পান ৮১,০৮৭ ভোট এবং জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পান ৫৪,৫৩৩ ভোট। বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের ৩৬,৭৫৩ ভোট পান। একই আসনে বিএনপির রাজীব আহসান পান ১,২৮,৩২২ ভোট এবং জামায়াতের মোহাম্মদ আবদুল জব্বার পান ৭৪,৬৮৪ ভোট। ঢাকা-৪ আসনে মোট ৪৫ শতাংশ ভোট পড়ে। এখানে জামায়াতের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭,৩৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির তানভীর আহমেদ পান ৭৪,৪৪৭ ভোট। হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ পান ৬,৫১৮ ভোট। ফলে তার জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়। এর আগে, গত রোববার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত