ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবায়ন চান ট্রাম্প

বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তির  বাস্তবায়ন চান ট্রাম্প

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সময় বুধবার এক অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ থেকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় ট্রাম্প বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের কৃষক ও শ্রমিকরা উপকৃত হবে এবং বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি বজায় রাখা সম্ভব হবে।

চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো সম্পন্ন করা হলে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী উচ্চমানের মার্কিন তৈরি আধুনিক সামরিক সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার পাবে, যা দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দুই দেশের অংশীদারত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও একটি মুক্ত এবং উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান। চিঠিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের প্রতি পূর্ণ আস্থার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফল মেয়াদ কামনা করেন।

তারেক রহমানকে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের গঠনমূলক সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার পারমেলিনের শুভেচ্ছাবার্তা- সংবলিত চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় সুইস সরকারের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই দায়িত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব ও কর্তব্য গ্রহণের প্রাক্কালে আপনার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।’ সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, ‘আপনার এই নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সূচনা করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্ব দেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’ পারমেলিন বলেছেন, ‘আমি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার সম্ভাবনার দিকে আগ্রহভরে চেয়ে আছি। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যাশা করছি।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয় বিএনপি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এর আগে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা।’ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ বিশ্বের অনেক নেতা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিনন্দন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই উষ্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অভিনন্দন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। অভিনন্দন বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

চিঠিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য মানবিক সহায়তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু কর্মকাণ্ড, অভিবাসন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব জোরদারে যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক রয়েছে। আমি আশাবাদী যে, আপনার নেতৃত্বে আমাদের সহযোগিতা কেবল আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেছে। চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে রয়েছি এবং অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়া আমাদের অগ্রাধিকার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় আরও সহযোগিতা, এর প্রভাবগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন কিয়ার স্টারমার। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুক্তরাজ্য সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তাদের মানবিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। পরিশেষে, দুই দেশের সম্পর্কের ‘পরবর্তী অধ্যায়’ সফল ও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত