ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইরানে হামলার ছক চূড়ান্ত করলেন ট্রাম্প

ইরানে হামলার ছক চূড়ান্ত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আগামী ১০ দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। ওয়াশিংটনে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই হুঁশিয়ারি দেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তিতে আসতে হবে, অন্যথায় ভয়াবহ কিছু ঘটবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির খবরও পাওয়া গেছে। ট্রাম্প জানান, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো কিছু বৈঠক’ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা সহজ নয়। যদি তা না হয়, তবে খারাপ কিছু ঘটবে।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করা হবে তেহরানের জন্য ‘বুদ্ধিমানের কাজ’। ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছেন বলে তিনি জানান। গত বছরের জুনে ইরানর তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। হোয়াইট হাউজ বর্তমানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েনসহ সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানও তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো শক্তিশালী করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, আমেরিকার রণতরি বিপজ্জনক ঠিকই, কিন্তু তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা ওই রণতরিকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। বিনা অনুমতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট রো খান্না এবং কেনটাকির রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে আগামী সপ্তাহে কংগ্রেসে ভোটাভুটির চেষ্টা করবেন।

রো খান্না বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে বিপর্যয়কর। ৯০ মিলিয়নের এই দেশটির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে এই প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এর আগে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে একই ধরনের একটি প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল রিপাবলিকানরা। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য সরকার। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ দ্বীপ ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহার করেছিল।

ইরানে হামলার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র : ইরানে দীর্ঘমেয়াদি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল আঘাত বাহিনী (স্ট্রাইক ফোর্স) জড়ো করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এতে মার্কিন সেনা হতাহত ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন কি না, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। কিছু সূত্রের মতে, ইতালিতে চলমান শীতকালীন অলিম্পিক গেমস আগামী রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) শেষ হচ্ছে। এটিও একটি কৌশলগত বিবেচনার বিষয় হতে পারে।

কর্মকর্তারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে গড়ে তোলা এই সামরিক শক্তি এখন অপেক্ষা করছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএন জেরাল্ড আর ফোর্ড ও এর সহগামী যুদ্ধজাহাজগুলোর আগমনের জন্য। গত সপ্তাহে জাহাজগুলোকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার জাহাজগুলো জিব্রাল্টার প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। কর্মকর্তাদের মতে, এগুলো পৌঁছালেই হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে। সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলায় তারা নাম প্রকাশ করেননি। ট্রাম্পের ১০- ১৫ দিনের ইঙ্গিত

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে দ্ব্যর্থক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা একটি চুক্তি করবো, হয়তো করবো না। আগামী ১০ দিনের মধ্যে হয়তো আপনারা জানতে পারবেন।’ পরে তিনি সময়সীমা ‘সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ দিন’ বলে উল্লেখ করেন। এর মধ্যেই বুধবার হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অঞ্চলে পাঠানো সব মার্কিন বাহিনী অবস্থান নেবে।

খামেনিকে অপসারণের ইঙ্গিত : ট্রাম্প প্রশাসন চায়, এটি স্পষ্ট হোক যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে অপসারণের কথা তুলেছেন। তার মতে, ইরানে নতুন নেতৃত্ব এলে সেটিই ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা’ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে, কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক সময়সূচির ওপর। যুক্তরাষ্ট্র কার্যত হামলার দ্বারপ্রান্তে থাকলেও চূড়ান্ত নির্দেশ এখনো আসেনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে- ওয়াশিংটন কূটনীতি বেছে নেয়, নাকি সামরিক পথ।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম বাড়ল : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম শুক্রবার বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তেলের দাম বাড়তে পারে। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেরপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১.৯৯ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬২ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৭.০৫ ডলার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। ইরান তেলসমৃদ্ধ আরব উপদ্বীপের বিপরীতে হরমুজ প্রণালীর ওপারে অবস্থিত। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত চুক্তিতে না এলে খুব খারাপ পরিণতি হবে। তিনি ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন।

অন্যদিকে ইরান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার পরিকল্পনা করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এর কয়েকদিন আগে দেশটি সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছিল। তেলের দাম বাড়ার পেছনে আরেকটি কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়া।

মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে শোধনাগারের ব্যবহার এবং রপ্তানি বেড়েছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হবে- এই অনিশ্চয়তা তেলের দামের উত্থান সীমিত রাখছে। উচ্চ সুদের হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমাতে পারে, যা জ্বালানির চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে তেলের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ইরানে ‘লক্ষ্যভিত্তিক হামলায়’ সমর্থন দিতে পারে সৌদি-আমিরাত : ইরানকে চাপে রাখতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা সমর্থন দিতে পারেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত রক্তক্ষয়ী হবে এবং এতে আরও দেশ জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন কূটনীতিকরা।

ইরান নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক ইউরোপীয় কূটনীতিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, শুরুতে অনেকে মনে করেছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক চাপ মূলত তেহরানকে আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল।

কিন্তু গত মঙ্গলবার জেনেভায় সর্বশেষ বৈঠক শেষ হওয়ার পর কূটনীতিকদের ধারণা বদলেছে। তাদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারসহ নিজেদের ‘মূল অবস্থান’ থেকে ইরান সরে আসতে প্রস্তুত নয়। ওই কূটনীতিকের ভাষায়, ‘ইরানিরা প্রযুক্তিগত জটিলতায় আলোচনা ডুবিয়ে দিতে এবং মূল বিষয়গুলো বিলম্বিত করতে চাইছিল। প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংলাপকে এগিয়ে নেওয়া হতো, কিন্তু ট্রাম্পের সেই ধৈর্য নেই।’

সামরিক চাপ: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো শুরুতে অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তাকে আশ্বস্ত করেছিল। তারা ভেবেছিলেন, এটি কেবল চাপ সৃষ্টির উপায়। তবে এখন যখন ইঙ্গিত মিলছে, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় ওই কূটনীতিক সৌদি-আমিরাতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কিছু পক্ষ হয়তো ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা সমর্থন করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ রক্তক্ষয়ী হবে এবং ইচ্ছা করে বা ভুল হিসাবের কারণে আরও দেশ এতে জড়িয়ে পড়তে পারে।’

আঞ্চলিক ভারসাম্য : বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও আমিরাত ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত সুবিধা খুঁজতে পারে। তবে তারা সরাসরি বড় যুদ্ধ চায় না। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও তেলের বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বড় ধাক্কা দিতে পারে। কূটনীতিকদের আশঙ্কা, চাপ প্রয়োগের কৌশল যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তার পরিণতি হতে পারে বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত।

যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না যুক্তরাজ্য : ইরানে হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। গত বৃহস্পতিবার দ্য টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, দীর্ঘদিনের চুক্তি অনুযায়ী গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ার ফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবস্থান করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভারী বোমারু বিমান মোতায়েন থাকে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া একটি মার্কিন-যুক্তরাজ্য যৌথ বিমান ঘাঁটি।

তবে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে হলে এর জন্য ব্রিটিশ সরকারের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সম্ভাব্য সামরিক হামলা চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে সেই অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের আশঙ্কা, সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া হামলায় অংশ নিলে তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ২০২৫ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরির সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের চুক্তিরও সমালোচনা করেছেন।

এই টেরিটরির মধ্যে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ও চাগোস দ্বীপপুঞ্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্?ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসনের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দিয়েগো গার্সিয়া এবং ফেয়ার ফোর্ডে অবস্থিত বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা প্রয়োজন হতে পারে। এখানে অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসন বলতে ইরানকে ইঙ্গিত করেছেন।

এই বিরোধের সূত্রপাত হয় ট্রাম্প যখন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেওয়া তার আল্টিমেটাম বিষয়ে আলোচনা করেন। পরদিন ট্রাম্প প্রকাশ্যে চাগোস চুক্তি নিয়ে তার সমালোচনাকে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুক্তরাজ্যের সমর্থন বৈধ হবে এবং ইরান যুক্তরাজ্য ও তার মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালাতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত