
শপথ ও বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ হতেই সংসদে সক্রিয় ভূমিকার প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় এমপিদের, বিশেষ করে প্রথমবার নির্বাচিতদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিল-বাজেট, স্থায়ী কমিটির কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দিতে দুই দিনের কর্মশালার আয়োজন করেছে দলটি। জামায়াত এই কর্মশালার নাম দিয়েছে ‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’। অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, একাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে এমপিদের দায়িত্ব ও বিরোধী দলের কৌশলগত ভূমিকা কেমন হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে এই কর্মশালায়।
জামায়াত সংশ্লিষ্টরা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ নির্বাচন করা হয়েছে। এরপর অধিকাংশ সংসদ সদস্য এবার নতুন নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাদের অতীতে জাতীয় সংসদে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই- এমন ভাবনা থেকে জামায়াত তাদের জন্য কর্মশালার আয়োজন করে।
গত বুধবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়–সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালা শুরু হয়। শেষ হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে। জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গত শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘যেহেতু আমরা একটা পজিটিভ ও সৃজনশীল ভূমিকা রাখতে চাই, ক্রেডিবল রোল প্লে (গ্রহণযোগ্য ভূমিকা পালন) করতে চাই জাতীয় সংসদে, এ জন্য জাতীয় সংসদ সদস্যদের যে বিষয়গুলো জানা উচিত, সে বিষয়ে কমপক্ষে একটা প্রাথমিক ধারণা দেওয়া। এ থেকেই এই ওরিয়েন্টেশনটা আমরা রেখেছি।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি সেশনে ভাগ করা কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা
বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থাপনা দেন আর সংসদ সদস্যরা নোট নেন ও আলোচনায় অংশ নেন। সামনে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে যেসব বিষয় তাদের সামনে আসবে সেগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়াই ছিল আয়োজনের লক্ষ্য। কর্মশালায় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব, ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে একাডেমিক আলোচনা করা হয়। একজন সদস্যের ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত ভূমিকা কী হবে, বিরোধী দল হিসেবে বিভিন্ন বিল ও আইনের ক্ষেত্রে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া যেতে পারে—এসব বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। স্থায়ী কমিটিগুলোর কাজ ও সংসদীয় প্রোটোকল সম্পর্কে তাদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হলে সেখানে উচ্চকক্ষ বা সিনেটের সঙ্গে নিম্নকক্ষের সম্পর্ক কী- সে বিষয়েও ধারণা দেওয়া হয়েছে। সেশনগুলো পরিচালনা করেছেন বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা। তাদের মধ্যে সংসদ ও সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা যেমন ছিলেন, তেমনি সাবেক আমলা, নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন।