ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

খামেনি পরিবারকে নির্মূলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের!

খামেনি পরিবারকে নির্মূলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি ছেলে মোজতাবা খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনাসহ তেহরানের বিরুদ্ধে চরম সামরিক পদক্ষেপের একাধিক বিকল্প ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে জমা দিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর শর্ত মেনে না নেয়, তবে ট্রাম্প এই চরম পথ বেছে নিতে পারেন।

ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, পেন্টাগন প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে, যার মধ্যে একটি হলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রভাবশালী মোল্লাতন্ত্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান উত্তজনা একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার অনুমতি দিতে পারে, তবে শর্ত থাকবে যে পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পথ খোলা রাখা যাবে না।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব না আসলে ট্রাম্পের ধৈর্য দ্রুত ফুরিয়ে আসতে পারে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে ট্রাম্প শুধু এমন একটি চুক্তিতে রাজি হবেন, যা তিনি নিজের দেশে রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আলোচনার চেয়ে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি দেখছে। ইসরায়েলি সরকার এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চলতি সপ্তাহান্তেই হামলার আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছিল, তবে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের মতে, প্রেসিডেন্ট সব পথ খোলা রাখছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য জানিয়েছেন, তারা একটি লিখিত প্রস্তাব তৈরির কাজ করছেন যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পেশ করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি যে শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হবে, তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বল এখন ইরানের কোর্টে; তেহরানের প্রস্তাব কতটা বিস্তারিত এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে কতটা আন্তরিক, তার ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে মাথা নত করবে না ইরান - পেজেশকিয়ান : যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে মাথা নত করবে না ইরান। নতি স্বীকার না করার এমন অঙ্গীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তিতে বাধ্য করতে প্রয়োজনে ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণার পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এ মন্তব্য করেছেন পেজেশকিয়ান।

তেহরানে প্যারালিম্পিক দলের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা কোনো চাপ বা কঠিন পরিস্থিতির সামনে মাথা নত করব না। বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে একজোট হয়েছে, কিন্তু আমরা নতি স্বীকার করব না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং জেরাল্ড ফোর্ড দুটি বিমানবাহী রণতরি ও শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটি ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ বলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব গণমাধ্যম জানিয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আরব সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দিতে রওনা হয়েছে। ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সতর্কবার্তা হিসেবে চিঠি পাঠিয়ে বলেছে, এই সামরিক প্রস্তুতিকে ‘শুধু বক্তব্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তারা জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে কোনো আগ্রাসনের জবাব হবে ‘দৃঢ় ও সমানুপাতিক’। চলতি মাসে ওমানে এবং পরে সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষ আলোচনা ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাছি জানিয়েছেন, একটি কূটনৈতিক সমাধান হাতের নাগালে রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠানো হতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, অর্থবহ চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটবে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সীমিত সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনার কথাও স্বীকার করেন।

তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক নারী আল জাজিরাকে বলেন, নিজেদের জন্য না হলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা চিন্তিত। তবে কেউ কেউ আশাবাদীও। একজন বাসিন্দা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে তারা ইরানকে সহজে পরাস্ত করতে পারবে না।

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজর কাড়ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত