ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ছয় সিটিতে নতুন প্রশাসক

ছয় সিটিতে নতুন প্রশাসক

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের ছয় সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই নিয়োগ দিয়ে রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে এবার আমলাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। অন্যদিকে, মো. শফিকুল ইসলাম খান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন। এছাড়া নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা সিটি কর্পোরেশন, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি কর্পোরেশন, মো. সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং মো. শওকত হোসেন সরকার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ পেয়েছেন।

‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ ক এর উপধারা (১) অনুযায়ী কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা তাদের সিটি কর্পোরেশনগুলোতে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।’ প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘নিয়োগ করা প্রশাসকরা স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ক এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন। প্রশাসকদের মধ্যে আব্দুস সালাম বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম খান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন তিনি।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি, শওকত হোসেন সরকার গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি।

সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। তবে জিততে পারেননি। জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন তিনি।

জনগণের সহযোগিতায় ঢাকার সমস্যা সমাধান করতে চাই- প্রশাসক আবদুস সালাম : ঢাকার চলমান নানা সমস্যার টেকসই সমাধানে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নবনিযুক্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া রাজধানীর দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। গতকাল সোমবার রাজধানীতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। নবনিযুক্ত ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা আজ যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের মতো বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন নাগরিকদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে আইন ও নীতিমালা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হয় না। ট্রাফিক আইন অমান্য করা, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা, অবৈধ দখল ও নির্মাণ এসব আচরণ নগর সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। নাগরিকরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তাহলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

আবদুস সালাম আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনগণের সমন্বয় বাড়াতে হবে। এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করলে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। রাজধানীকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে সামাজিক অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার একা সব করতে পারবে না; জনগণ এগিয়ে এলে ঢাকাকে বদলে দেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত