
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ এবং খলিল গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ উভয়পক্ষের মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নড়াইলের পুলিশ সুপার আম মামুন শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- উপজেলার বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের খলিল রহমান, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ মারা যান।
স্থানীয়রা বলছেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সিঙ্গাশোলপুরে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান মোল্যা এবং আরেক পক্ষে আছেন আরেক সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখ। সোমবার ভোরে খায়রুজ্জামান পক্ষের লোকজন বড়কুলা গ্রামে উজ্জ্বল শেখ পক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন উজ্জ্বল শেখ পক্ষের খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ ও প্রতিবেশী ফেরদৌস। পরে খায়রুজ্জামান পক্ষের ওসিকুর নামে একজন আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে দুই গ্রুপের মাঝে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ নানা দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের প্রতি ঝাপিয়ে পড়েন। এসময় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ নিহত হন।
গোপালগঞ্জে নিহত এক, আহত ৩০ : নড়াইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার চারজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন করে কোনো ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হালিম ফকির নামে একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার । নড়াইলের পাশাপাশি গতকাল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কমলাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম নিলু মুন্সি (৫০)। তিনি কমলাপুর গ্রামের আনোয়ার মুন্সির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেন মুন্সি গ্রুপ ও নুর ইসলাম গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রথমে আনোয়ার মুন্সির পক্ষের লোকজন হাসপাতাল গেটে নুর ইসলামকে আক্রমণ করেন। এ ঘটনার জেরে নুর ইসলামের লোকজন আনোয়ার মুন্সির বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে সংঘর্ষে বেধে যায়।
সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। প্রথমে আহতদের মুকসুদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মারাত্মক আহত নিলু মুন্সি (৫০), স্ত্রী রূপা বেগম (৪০), ভাই মিলন মুন্সি (৫২) ও দুলাল মুন্সিকে (৪০) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিলু মুন্সিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।