
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের রদবদলে পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে এলেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, যিনি এতোদিন এপিবিএন প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পনেরতম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডার আলী হোসেন ফকিরের বাড়ি বাগেরহাট। তিনি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হলেন। আলী হোসেন ফকির ঢাকা মহানগর পুলিশ ছাড়াও নেত্রকোণা, ফেনী ও মাগুরার পুলিশ সুপার ছিলেন। ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা জোনের ডিসি ছিলেন। এরপর তিনি কসোভা ও আইভরি কোস্ট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফেরার পর খুলনা তৃতীয় এপিবিএন অধিনায়ক থাকা অবস্থায় ২০২২ সালের নভেম্বরে আলী হোসেন ফকিরকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করতেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান আলী হোসেন ফকির। এরপর পদোন্নতি দিয়ে প্রথমে উপমহাপরিদর্শক, পরে ২০২৫ সালের অগাস্টে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এপিবিএন প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আলী হোসেন ফকিরের সহধর্মিণী নাসিমা ফেরদৌসী সরকারি তিতুমীর কলেজে ফিন্যান্স বিভাগের প্রধান হিসেবে রয়েছেন। আইজিপি হিসেবে সবশেষ দায়িত্ব পালন করা বাহারুল আলম ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর আগে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন তখনকার আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন মধ্যরাতে নতুন পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মো. ময়নুল ইসলাম। এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে বাহারুল আলমকে পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে আনা হয়। এর প্রায় ১ বছরের মাথায় গেল ডিসেম্বরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নাম আসায় সমালোচনার মুখে পড়েন বাহারুল। তার পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন আন্দোলনও চলে।