
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে হামলায় ইরানে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫৬০ জন সেনাসদস্য হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬০ জন সেনাসদস্য হাতহতের তথ্য প্রত্যাখান করে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের সময় তিনজন মার্কিন সৈন্যের মৃত্যু এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা আলোচনার মধ্যে এমন হামলা করে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইরানও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
মার্কিন-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহত ৫৫৫ : ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ অনেক এলাকায় উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান। এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরলস কাজ করছেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বিপ্লবী গার্ড : ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। নেতানিয়াহুর কার্যালয় ছাড়াও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদরদপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। সোমবার আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। (আইআরজিসি) বলেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাদের বিমান বাহিনীর কমান্ডারের সদরদপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও বিমানবাহিনীর প্রধানের কার্যালয়ে হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে আইআরজিসি।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের এক শহরে নিহত অন্তত ৯ : মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত নয়জন নিহত এবং আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। এটি ইসরায়েলের ওপর ইরানের পাল্টা হামলার অন্যতম ঘাতক ঘটনা। ইরানের হামলায় বেইত শেমেশের আবাসিক এলাকায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি এক বোমসহ নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্র ও আশপাশের বাড়িগুলোতে আঘাত হানে।
ইসরায়েলে রকেট হামলা ইরানের, পশ্চিম জেরুজালেমে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ : ইসরায়েলের জেরুজালেম শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া পশ্চিম জেরুজালেমে ধারাবাহিক বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শনাক্ত করা হয়েছে। হুমকি রোধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, একটি ইরানি রকেট সরাসরি জেরুজালেম শহরে আঘাত হেনেছে। এ অবস্থায় জনগণকে শেল্টারে বা আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইরানি হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৭৭ ইসরায়েলি : ইরানে পরিচালিত ইসরায়েলি অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র -ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পালটা হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েলে পরিচালিত ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭৭৭ জন ইসরায়েলিকে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে ৮৬ জন বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে দুইজন সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঘাত পেয়েছে এবং বাকি দুইজন ন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া নিবিড় পর্যবেক্ষণাধীন আছে আরও চারজন। হাসপাতালে ভর্তি বাকিদের মধ্যে মাঝারি আকারে আহত হয়েছেন ২০ জন। এছাড়া ৫৮ জন ইসরায়েলির অবস্থা স্থিতিশীল বা আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, সাইরেন বাজার পর নিরাপদ আশ্রয়ের (শেল্টার) দিকে দৌড়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এত সংখ্যত মানুষ আহত হয়েছেন। মূলত ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতের পাশাপাশি আতঙ্ক এবং হুড়োহুড়ির কারণে এই আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কুয়েতে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত : উপসাগরীয় অঞ্চলে তৃতীয় দিনের মতো ইরানের হামলা চলার মধ্যে কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে উড়োজাহাজগুলোতে থাকা আরোহীরা বেঁচে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, আজ সোমবার সকালে বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিধ্বস্ত বিমানে থাকা সমস্ত আরোহী বেঁচে আছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। সোমবার সকালে কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিনিধি।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোতে হামলা : ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো তাদের রাস তানুয়ারা শোধনাগারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। সোমবার শিল্প সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা : যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাইপ্রাসের একটি আরএএফ ঘাঁটি লক্ষ্য করে রোববার রাতে ‘সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা’ করা হয়েছে। সাইপ্রাসের আরএএফ আক্রোতিরিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। খবর বিবিসির। তবে এই হামলায় কোনো হতাহত হয়নি। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণাণয় বলেছে, এই অঞ্চলে আমাদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং আমাদের কর্মীদের রক্ষা করতে ঘাঁটি থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
মার্কিন- ব্রিটিশ ৩টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি আইআরজিসির : যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা করে ইরান। গত রোববার আইআরজিসি এই হামলার দাবি জানিয়েছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় তিনটি মার্কিন ও ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পর ট্যাঙ্কারগুলোতে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই এলাকায় যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় সক্রিয় ইরানি ‘স্লিপার সেল’, টেক্সাসে নিহত দুই : যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় ইরানের ‘স্লিপার সেল’ (গুপ্ত চক্র) সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলা এবং কানাডায় এক ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীর জিমণ্ডএ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ‘স্লিপার সেল’ আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। টেক্সাসের অস্টিন শহরের সিক্সথ স্ট্রিট ডিস্ট্রিক্টের একটি বারে গত রোববার ভোরে এক বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২ জনকে হত্যা এবং অন্তত ১৪ জনকে আহত করেছে। পরে পুলিশের গুলিতে ৫৩ বছর বয়সি সন্দেহভাজন এনডিয়াগা দিয়াগনে নিহত হয়। তদন্তে জানা গেছে, দিয়াগনের পরনে ছিল ‘প্রপার্টি অব আল্লাহ’ লেখা হুডি এবং ইরানের পতাকার লোগো সংকলিত শার্ট।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হিজবুল্লাহ : ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গতকাল সোমবার ভোরে উত্তর ইসরায়েলের হাইফার কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয়। আল-জাজিরা জানায়, এই হামলার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেল। যদিও যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেই লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল, হিজবুল্লাহ দাবি করে আসছিল যে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলেছে। এদিকে, নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের দিকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলা লেবাননের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং ইসরায়েলকে আগ্রাসন অব্যাহত রাখার অজুহাত দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘দেশকে আমরা নতুন কোনো দুঃসাহসিক অভিযানে জড়িয়ে পড়তে দেব না। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লেবাননের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এর আগে হিজবুল্লাহ হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার প্রতিক্রিয়া এবং লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা করবে না ইরান : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় যাবে না ইরান। এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ইরান আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছে। কিন্তু ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলী লারিজানি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আরী লারিজানি স্পষ্টভাবে দুটি বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছে না এবং ইরান আত্মরক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী এই যুদ্ধ শুরু করেনি। ইরান কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেন, দেশটি এরই মধ্যে দুবার কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছে। একবার ২০২৫ সালে আলোচনার সময় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। এখন একইভাবে দেশটি আবারও আক্রমণের মুখে পড়েছে যখন আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং আইএইএ-এর সঙ্গে দুটি নতুন আলোচনার আশা করছিলাম। এখন এটি স্পষ্ট নয় যে, এই অচলাবস্থার কোনো কূটনৈতিক সমাধান হবে কি না।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হেডকোয়ার্টার ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের : ইরানের সুপ্রশিক্ষিত সেনাদল আইআরজিসির সদর দপ্তর ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইসরায়েলও একই দাবি জানায়। সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশে পরিচালিত যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে তারা দেশটির শক্তিশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তর ধ্বংস করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমেরিকার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী আছে এবং আইআরজিসির কাছে এখন আর কোনো সদরদপ্তর নেই। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) গত ৪৭ বছরে হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা হত্যা করেছে। গত রোববার এক বড় আকারের মার্কিন হামলায় ওই সাপের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে’।
ইরানে যুদ্ধ চার সপ্তাহ চলতে পারে- ট্রাম্প : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, এটি সবসময়ই চার সপ্তাহের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। আমরা ধারণা করেছিলাম, এটি প্রায় চার সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময় লাগবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান একটি বড় ও শক্তিশালী দেশ হওয়ায় অভিযান সম্পন্ন করতে এই সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে চার সপ্তাহের কম সময়েও শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয়ে তিনি এখনো উন্মুক্ত আছেন। তবে সেই আলোচনা শিগগির শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি। ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না। তারা কথা বলতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি- তোমাদের গত সপ্তাহেই কথা বলা উচিত ছিল, এই সপ্তাহে নয়।
ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ১৮০ : ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আল জাজিরার খবরে এমনটি জানানো হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান হোসেন কেরমানপুর বলেন, গত রোববার মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ‘প্রায় ১৮০ জন শিশু’ নিহত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও ‘একই ধরনের’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।