
মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্দান গত শনিবার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পুরো অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের মোট ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর মধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার ও ফ্লাইদুবাইয়ের একটি করে ফ্লাইট, এয়ার অ্যারাবিয়ার তিনটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ছয়টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি ফ্লাইট বাতিল হয়।
১ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের আরও ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি, ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি, কাতার এয়ারওয়েজের দুটি, সালামএয়ারের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ) আটটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের চারটি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নয়টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত ছিল।২ মার্চ এ পর্যন্ত ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ছিল কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি, ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ) আটটি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট।
উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ, ৩৪০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় গত কয়েক দিনে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নিজ দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল, শারজাহ, আবুধাবি এবং দোহার হামাদ ইন্টারন্যাশনালসহ এই অঞ্চলের অন্তত ছয় থেকে সাতটি প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থগিত রয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর এই বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সংযোগকারী প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ফলে এই ‘হাব’গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে এক ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা অনেকটা ‘ডমিনো ইফেক্টে’র মতো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় এবং যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকায় হাজার হাজার যাত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সামাজিক মাধ্যমগুলোতে হামাদ, দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দরে আটকেপড়া যাত্রীদের হাহাকার ফুটে উঠেছে।