
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ওই মুখপাত্রের এমন বক্তব্য প্রচার করেছে। তবে নাম প্রকাশ না করা ইরানের ওই মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা না হলেও সেখান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজ চলাচল করতে গেলে সেটাকে নিশানা বানানো হবে। ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে ইচ্ছুক কোনো জাহাজকে বাধা দেব না। তবে এর নিরাপত্তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজকে নিতে হবে।’ ‘জায়নবাদী সত্ত্বা (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে গেলে সেটাকে নিশানা করা হবে’- ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের ওই মুখপাত্র।
আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ৩৯ কিলোমিটার (২৪ মাইল) দীর্ঘ। পারস্য সাগর আর ওমান সাগরের মধ্য সংযোগ তৈরি করেছে এই প্রণালী। বিশ্বের মোট জ্বালানির এক-ষষ্টাংশ এবং এলএনজির এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ আগ্রাসন এবং তেহরানের পাল্টা জবাবের কারণে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য, এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে। বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের তথ্য পর্যালোচনাকারী প্রতিষ্ঠান ভোরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪টি জাহাজ চলাচল করত। তবে সংঘাত শুরুর পর ১ মার্চ এ সংখ্যা মাত্র ৪-এ নেমে এসেছে। ভোরটেক্সা ও জাহাজ ট্র্যাকার কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩০০টি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে আছে।