ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

গাড়িতে ৩০% জ্বালানি কম নেবেন মন্ত্রীরা

গাড়িতে ৩০% জ্বালানি কম নেবেন মন্ত্রীরা

সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। গতকাল শুক্রবার মন্ত্রিসভা বৈঠক নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ কমাতে হবে। এতে আরও বলা হয়, সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রতিদিন ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মকৌশল নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ কর্মকৌশলে আওতায় প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান সংঘাতে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব; পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত কর্মকৌশল (স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি); অর্থায়ন কৌশল সম্বলিত অর্থ বিভাগের প্রণীত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রণীত সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান, সারের উৎপাদন, মজুদ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির যোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগামী ৩ মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে জানিয়ে প্রেস ব্রিফে বলা হয়েছে, আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জরুরিসেবা ছাড়া সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় বন্ধ করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণের সিদ্ধান্ত : কালো ধোঁয়া উদগীরণ করা ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। শুক্রবার মন্ত্রিসভা বৈঠক নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈঠকে জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকুল্যে ২০ শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত