
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা, ধোঁকা এবং গাদ্দারি করে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। তারা এখন সেই পুরোনো আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাকশালি কায়দায় একদলীয় শাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। সব জায়গায়- বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের লোক বসিয়ে ‘ক্যু’ শুরু করেছে।
গতকাল রোববার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ‘১১ দলীয় ঐক্য’। বিএনপির উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি দাবি করে একাত্তর তাদের, নব্বই তাদের, চব্বিশও তাদের। কিন্তু একাত্তরে তো বিএনপির জন্মই হয়নি। জিয়াউর রহমান সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন- আমরা তাকে সম্মান করি। কিন্তু একক ক্রেডিট একজনকে দিলে বাকি যোদ্ধাদের অবস্থান কোথায় থাকে? এটা যুদ্ধকে কুক্ষিগত করার অপপ্রয়াস। বিএনপি নিজেদের ৩১ দফা সংস্কারের কথা বললেও এখন তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, তারা স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত প্রতিনিধি না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সব জায়গায়- বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের লোক বসিয়ে ‘ক্যু’ শুরু করেছে। সংবিধান সংস্কারের কথা তাদের ৩১ দফার প্রথম দফা, কিন্তু এখন তারা তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। মিথ্যার সামনে আমরা মাথানত করবো না মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রয়োজনে হাসতে হাসতে ফাঁসির তক্তার ওপর দাঁড়াবো, তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না। যতদিন সংসদের ভেতরে লড়াই করতে পারবো ততদিন থাকবো, নইলে জনগণের কাছে ফিরে যাবো। আমাদের আসল ঠিকানা রাজপথ, সংসদ আমাদের আসল ঠিকানা নয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই যোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে তার নানা কাজের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কখনো তারা ৭১ এর নাম ব্যবহার করছে, কখনো তারা জুলাই যোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করছে। তারা আসলে কোনোটাকেই ধারণ করে না। তারা সব আন্দোলনের সুবিধাভোগী ছিল। সব আন্দোলনের সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু কোনো আন্দোলন, কোনো গণআন্দোলনের তারা প্রতিশ্রুতি কখনোই রক্ষা করে নাই। অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন নাহিদ। তিনি বলেন, আমাদের গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা চেয়েছিলাম সংসদেই সব ফয়সালা হবে। সংসদকে যদি সরকার ব্যর্থ করে দেয়, সংসদকে যদি সরকার ‘কুক্ষিগত’ করে দেয় তাহলে রাজপথে আসার জন্য তারা ‘সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি’ নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।