ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভারত ও রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ

সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
ভারত ও রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ

ইরান যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বেই দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট, যা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। এই সংকট মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিষয়টি জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিন গতকাল সোমবার প্রশ্নাত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলার উদ্দেশে সরকার ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ হতে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য আমদানি বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক জোট ও অঞ্চলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক পর্যায়ে কৌশলগত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) গঠনে অগ্রাধিকার দিয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিতে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে শুল্ক হ্রাস, অশুল্ক বাধা কমানো, বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করা হবে।’

পণ্য বহুমুখীকরণের ও বাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে ২১টি দেশে বাংলাদেশের ২৪টি বাণিজ্যিক উইং রফতানি সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। মিশনগুলো হচ্ছে- ব্রাসেলস, প্যারিস, বার্লিন, মাদ্রিদ, জেনেভা, লন্ডন, মস্কো, আঙ্কারা, ক্যানবেরা, অটোয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, লসএঞ্জেলস, বেইজিং, কুনমিং, নয়া দিল্লি, কলকাতা, তেহরান টোকিও, জেদ্দা, ব্রাসিলিয়া, কুয়ালালামপুর, সিউল, সিঙ্গাপুর ও দুবাই।’ এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ তুলে ধরেন মন্ত্রী।

জানমালের নিরাপত্তা চাইলেন হান্নান মাসউদ, থানা দেখালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। গত শনিবার হাতিয়া থেকে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়তে যাচ্ছিলেন বলে সংসদকে জানান তিনি। হান্নান মাসউদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পিকার অধিবেশনে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে এই সংসদ সদস্যকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। গতকাল সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে জরুরি জনগুরুসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (৭১-বিধি) নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জানমালের নিরাপত্তা চান।

জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া হান্নান মাসউদের নোটিশটি সংসদে গৃহীত হয়নি। স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নোটিশের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

নোটিশের ওপর কথা বলার সুযোগ দিলে হান্নান মাসউদ জানান, একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি, যেখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের রাজত্ব চলছে। নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে তিনি অন্তত পাঁচবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি তার জন্য মসজিদে দোয়া করায় ইমামের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, যিনি দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমাকে সরাসরি অস্ত্র হাতে কোপাতে আসার ভিডিও এবং প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক শেল্টারে রাখা হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’

হান্নান মাসউদ প্রশ্ন তোলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য হয়ে যদি আমি এবং আমার নেতাকর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী? গাড়িতে এখনও সন্ত্রাসীদের দেওয়া কোপের দাগ রয়েছে এবং বিটিভির সাংবাদিককে কুপিয়েছে এমন চিহ্নিত আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ এই ঘটনার সংসদীয় তদন্তের পাশাপাশি নিজের ও তার কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যের আগে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার জানমাল, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় যে নোটিশটি দিয়েছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গেলে তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয় এবং ২৯ মার্চ সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে তাকে অনলাইনে অশালীন ভাষায় আক্রমণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও কার্যপ্রণালি বিধির ১৬৫(২) ও ১৬৫(৪) উপবিধির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে নোটিশটি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবু বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।’

এই প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিবেশনে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন।

হান্নান মাসউদকে থানা দেখালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিটি বিষয় আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। যদি হামলার এই ঘটনাগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার অপরাধীদের ছাড় দেবে না।’

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শুধু এই সংসদ সদস্যই নন, হাউজের যেকোনও সদস্য যদি এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হয়। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব দ্রুতই বাংলাদেশিদের জন্য খুলবে - প্রতিমন্ত্রী : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব দ্রুতই বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় খুলবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। গতকাল সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশের মিল থাকায় কর্মজীবীদের পছন্দের জায়গা মালয়েশিয়া। তা আমাদের শ্রমবাজারের বড় জায়গাও বটে। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে এটি বন্ধ আছে। এই (প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইতিবাচক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুতই বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার পথটুকু খুলে যাবে। আশা করি খুব দ্রুতই একটি ফলাফল আমরা পাব।’

কবে নাগাদ শ্রমবাজার খুলবে- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্দিষ্টভাবে দিন-তারিখ বলা যাবে না। কারণ এটি মালয়েশিয়া সরকারের বিষয়, তবে আমাদের দিক থেকে আমরা প্রস্তুত। প্রশিক্ষণসহ আমাদের লোকবল প্রস্তুত। আমাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। মালয়েশিয়া থেকে সংকেত পেলেই এখান থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও দেশে ‘মবের সংস্কৃতি’ চলছে - সংসদে রুমিন ফারহানা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও দেশে কীভাবে একের পর এক ‘মব সন্ত্রাসের’ ঘটনা ঘটছে, সেই প্রশ্ন জাতীয় সংসদে তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজকে উপস্থিত আছেন। উনি একবার না দুইবার না, কয়েক দফা আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশে আর মবের কালচার হবে না। উনি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি হবে না। উনি আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম একটির পর একটি জায়গায় মবের ঘটনা ঘটেই চলেছে।’ গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিসের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন রুমিন।

ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে ৭১ ধারায় মোট ৭৫টি নোটিস জমা পড়ে। এর মধ্যে তিনটি নোটিস গ্রহণ করা হয়। বাকি নোটিসগুলোর মধ্য থেকে সময়সীমার মধ্যে কয়েকজন সদস্যকে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের সদস্য রুমিন ফারহানা ‘মবের সংস্কৃতি’ নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানান রকম সংস্কৃতি থাকে, নাচের সংস্কৃতি, গানের সংস্কৃতি, অভিনয় সংস্কৃতি, কবিতার সংস্কৃতি। আমাদের দেশে গত দেড় বছর এবং এরপরে গত দুই মাস ধরে আমরা মবের সংস্কৃতি দেখলাম।’

রুমিন ফারহানা একের পর এক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মব করে সরানো হয়েছে। আমরা দেখলাম বাসসের প্রধানকে মব করা হয়েছে। বরিশাল আদালতের প্রাঙ্গণে মব হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ল’ ইয়ারস রুমে মব হয়েছে। ডেইলি স্টার প্রথম আলো ভাঙা হয়েছে।

‘চট্টগ্রামে দেড় বছর আগে নেচেগেয়ে নাচ এবং গানের মতো তৈরি করে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় একজন কথিত পীরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে কিছুদিন আগে।’

স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্যের ভাষ্য, ‘ন্যায়বিচারের অভাব, ক্ষোভ, হতাশা ও বৈষম্য থেকে’ এ ধরনের প্রবণতা বাড়ছে।

‘মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখনই এইরকম সংস্কৃতির বাড়ে এবং মানুষ এই ধরনের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে যায়। মানুষের মধ্যে হতাশা আছে, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে, মানুষের মধ্যে তীব্র বৈষম্য আছে এবং সর্বোপরি আছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব।’

চট্টগ্রামের একটি ঘটনার বিচার না হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে মব করে যেই লোকটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল, তার বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি।’ তার বক্তব্যের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলে নোয়াখালী-৬ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিশেষ অধিকার ক্ষুণেœর প্রশ্নে দেওয়া নোটিস নিয়ে আলোচনা হয়।

ডেপুটি স্পিকার সংসদে জানান, প্রায় একই বিষয়ে দেওয়া তার দুটি নোটিসে বলা হয়েছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেখতে গেলে তার গাড়িবহরে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী হামলা’ চালানো হয়। ২৯ মার্চ সংসদে বক্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত অশালীন, মানহানিকর, নিন্দনীয়’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং অনলাইনে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে একাধিকবার তিনি হামলার শিকার হয়েছেন, এখনও নিজ এলাকায় নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন না। তার ভাষায়, ‘আমি তো আমার যেই এলাকা যেখান থেকে আমি নির্বাচন করছি, সেই এলাকায় আমাকে নিরাপদে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, নিরাপদে আমাকে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, আমার সঙ্গে যারা নেতাকর্মীরা চলা তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, তার কাছে হামলা ও হত্যার হুমকির ভিডিও, নথি ও অন্যান্য প্রমাণ আছে। এসব ঘটনায় জড়িতরা ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে’ এখনও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

পরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিষয়টি ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হলেও তা কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৫(২) ও ১৬৫(৪) অনুযায়ী বিশেষ অধিকার প্রশ্ন হিসেবে গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, কারা হুমকি দিয়েছে, নোটিসে তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি বিষয়টি সাম্প্রতিক কোনো নির্দিষ্ট একক ঘটনার মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়। তবে হান্নান মাসউদের অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অধিবেশনে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান ডেপুটি স্পিকার। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অভিযোগ সত্য হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য যদি কোনো জিডি অথবা মামলা সংশ্লিষ্ট থানায় না করে থাকেন, এখনও তিনি ইচ্ছা করলে সে বিষয়ে উনার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে পারেন এবং সে বিষয়ে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু হান্নান মাসউদের ক্ষেত্রেই নয়, যে কোনো সংসদ সদস্য এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা নিকটস্থ থানাকে জানানো উচিত। তার ভাষায়, ‘সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত