ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

‘আমরা হারিনি, পদত্যাগ করব না’

‘আমরা হারিনি, পদত্যাগ করব না’

শোচনীয় পরাজয়ের বিধানসভা নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচারব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়। তার প্রশ্ন- গণতন্ত্র কোথায় যাবে?

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন ১০০ আসন লুট করেছে। এমনি জিতলে কোনো অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে ২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল জিতেছে ৮০টি আসনে। ভোটের এই ফলাফলের পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাট থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, ‘এমনি জিতলে কোনো অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।’

গণনার শুরুর পর সংবাদমাধ্যমে বিজেপি দুই শতাধিক আসন পেয়েছে দেখানোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’

উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নিজ আসন ভবানীপুরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন। ভোটের ব্যবধান ছিল ১৫ হাজারের বেশি। মমতা বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে। সব অফিসারকে বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’ সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, এখনই তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’ মমতা আরও বলেন, ‘এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।’ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শক্তি বৃদ্ধি করার কথাও বলেছেন মমতা। বিজেপিবিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সব নেতা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সবাই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।’ মমতা ও অভিষেকের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

রবি ঠাকুরের জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের শপথ : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ী বিজেপির নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৯ মে। রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনটিকে নতুন সরকারের যাত্রার সূচনা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই তারিখ নিশ্চিত করেছেন। এএনআই সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আগামী ৯ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ব্যারাকপুরে শেষ নির্বাচনি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সময়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমি আবার এখানে আসব। গত সোমবার ঐতিহাসিক রায়ের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রবীন্দ্রসংগীতের আদর্শ তুলে ধরেন। তিনি কবিগুরুর দর্শনের প্রতিধ্বনি করে বলেন, বিজেপি এমন এক বাংলা গড়তে চায়- যেখানে ভয় নেই এবং মাথা উঁচু করে থাকা যায়।

এদিকে শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের প্রধান সচিব এস বি জোশি ও সচিব সুজিত কুমার মিশ্র দিল্লি থেকে কলকাতায় আসছেন। তারা নির্বাচনি ফলাফলের অফিসিয়াল গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তা (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়ালের কাছে হস্তান্তর করবেন। সিইও আগামী ৬ মে রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করবেন। এরপর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যপাল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজ্যপাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

২৫ বৈশাখ বা ৯ মে তারিখটি শুধু রবীন্দ্রজয়ন্তী নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির এক অমোঘ উৎসব। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান ও দর্শন বাঙালির হৃদস্পন্দনের মতো। প্রায় সাড়ে চার দশকের বাম ও তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির এই ক্ষমতা গ্রহণ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের আলোচিত প্রার্থীরা কে কার কাছে হারলেন : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রিসভার অনেক তারকা প্রার্থী হেরেছেন। তৃণমূল প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও হেরেছেন। তিনি হেরেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনে মুখোমুখি হয়েছিলেন। শুভেন্দু ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতছেন। ভবানীপুর ছাড়া নন্দীগ্রাম আসনেও জিতেছেন বিজেপির এ নেতা। মমতার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তারকা প্রার্থী ও মন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন। আনন্দবাজার অনলাইনের তথ্যমতে তৃণমূলের কয়েকজন তারকা প্রার্থী বিজেপির কোন প্রার্থীর কাছে কত ভোটে হেরেছেন, তা তুলে ধরা হলো।

সুজিত বসু: বিধাননগর আসন থেকে নির্বাচন করা তৃণমূলের সুজিত বসুর দিকে নজর ছিল সবার। তৃণমূলের এ ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী ৩৭ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। মমতার বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য সুজিতের হার হয়েছে বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য : রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে এ বারও দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তিনি বিজেপির সৌরভ সিকদারের কাছে ২৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। ২০১১ সালেই দমদম উত্তরের বিধায়ক হয়েছিলেন চন্দ্রিমা। ২০১৬ সালে ওই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। তবে ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে কাঁথি দক্ষিণ থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালের ভোটে আবার দমদম উত্তরে লড়েন এবং জেতেন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সজল ঘোষের কাছে হেরেছেন ১৬ হাজার ৯৫৬ ভোটে। ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে জিতে বরাহনগরের বিধায়ক হয়েছিলেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ চক্রবর্তী : ব্যারাকপুর থেকে হেরে গেছেন তৃণমূলের আরেক তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। এ চলচ্চিত্র পরিচালক দ্বিতীয়বারের মতো ব্যারাকপুরের ভোটের মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু ১৫ হাজারের বেশি ভোটে তিনি বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর কাছে হেরে যান।

দেবাশিস কুমার : রাসবিহারী আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশিস কুমার বিজেপির ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের কাছে প্রায় ২১ হাজার ভোটে হেরে গেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন তিনি। রাসবিহারী কেন্দ্র মানেই অভিজাত, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির বসতি।

অরূপ বিশ্বাস : তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ নেতা অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়েছিলেন টালিগঞ্জ আসন থেকে। বিজেপির পাপিয়া দে অধিকারীর কাছে তিনি ৬ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গেছেন।

শশী পাঁজা : তৃণমূলের হয়ে এ বারও শ্যামপুকুর আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ১৪ হাজার ৬৩৩ ভোটে শশীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন পূর্ণিমা। শশী পাঁজা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত অজিত পাঁজার পুত্রবধূ।

রত্না চট্টোপাধ্যায় : বেহালা পশ্চিম আসন থেকে এবার তৃণমূলের হয়ে নির্বাচন করেছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। ২৪ হাজার ৬৯৯ ভোটে তিনি বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ’র কাছে হেরেছেন। এর আগে ২০২১ সালে ওই আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন রত্না।

অতীন ঘোষ : কাশীপুর-বেলগাছিয়া আসন থেকে তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষকে এবারও প্রার্থী করেছিলেন। বিজেপির প্রার্থী রিতেশ তিওয়ারির কাছে তিনি ১ হাজার ৬৫১ ভোটে হেরেছেন।

শ্রেয়া পাণ্ডে : মানিকতলায় তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। বিজেপির প্রবীণ নেতা তাপস রায়ের কাছে তিনি ১৫ হাজার ৬৪৪ ভোটে হেরেছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকতলার বিধায়ক সাধন পাণ্ডে মারা যান। পরে ওই আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন তাঁর স্ত্রী সুপ্তি। এ বারের নির্বাচনে কন্যা শ্রেয়াকে প্রার্থী করে তৃণমূল।

ব্রাত্য বসু : দমদমেও তৃণমূলের নক্ষত্রপতন হয়েছে। এই আসনে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী ব্রাত্য বসু বিজেপির অরিজিৎ বক্সীর কাছে ২৫ হাজার ২৭৩ ভোটে হেরে গেছেন। তবে ব্রাত্য বসু তুলনামূলক ভাবে সহজ জিতবেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।

পরেশচন্দ্র অধিকারী : কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে তৃণমূলের শক্তিশালী প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী বিজেপির দধিরাম রায়ের কাছে ২৯ হাজার ৫৮৪ ভোটে হেরেছেন। পরেশচন্দ্রের জন্য এবারের লড়াই সহজ ছিল না। রাজ্যের স্কুলে শিক্ষক বা এসএসসি নিয়োগ মামলায় দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরিও গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পরেশচন্দ্রের ভোটের ফলাফলে এ ঘটনা প্রভাব রেখেছে।

উদয়ন গুহ: দিনহাটা থেকে তৃণমূলের তিন বারের বিধায়ক উদয়ন গুহও হেরে গেছেন। কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের কাছে তিনি ১৭ হাজার ৪৪৭ ভোটে হেরে যান।

স্বপ্না বর্মণ: রাজগঞ্জে তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল সোনাজয়ী সাবেক অ্যাথলেট স্বপ্না বর্মণকে। বিজেপির দীনেশ সরকারের কাছে তিনি ২১ হাজার ৪৭৭ ভোটে হেরেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জলপাইগুড়ির এই আসনে জিতেছিল তৃণমূল। তখন তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন খগেশ্বর রায়। এ বার তার জায়গায় এই আসনে স্বপ্নাকে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল।

গৌতম দেব: শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব তৃণমূলের টিকিটে শিলিগুড়ি আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে নেমেছিলেন। কিন্তু বিজেপির ‘ভরসার মুখ’ শঙ্কর ঘোষের কাছে তিনি ৭৩ হাজার ১৯২ ভোটে হেরে গেছেন। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনেও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে বিজেপির প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে গিয়েছিলেন গৌতম।

অর্পিতা ঘোষ: দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট আসন থেকে এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন নাট্যকর্মী ও সাবেক সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। বিজেপির বিদ্যুৎকুমার রায়ের কাছে তিনি ৪৭ হাজার ৫৭৬ ভোটে হেরেছেন। পশ্চিমবঙ্গে এবার ২ দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট হয় ১৫২ আসনে। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় ১৪২টি আসনে। গত সোমবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। ভোট গণনার ফলাফলের যে ধারা, সন্ধ্যা পর্যন্ত যা বিচ্যুতিহীন, তাতে স্পষ্ট, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩ (একটি আসনে ভোট গ্রহণ নতুন করে হবে) আসনের ফলাফলে বিজেপি ২০৬টিতে হয় জয়ী ঘোষিত, নয়তো এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এমন আসনসংখ্যা ৮০-এর আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় তৃণমূল। ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাম ফ্রন্টকে হারিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে মমতার দল তৃণমূল। এবার সেখানে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।

তৃণমূলের বিধায়কপ্রার্থীকে মাটিতে ফেলে পেটালেন বিজেপির সমর্থকেরা : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর হামলা-ভাঙচুর-সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাজ্যে বিজেপির জয়ের খবর আসার পর কালীঘাটে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে হামলা চালান একদল বিজেপি সমর্থক। তাঁরা দপ্তরটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। বারাসাতে তৃণমূল দপ্তরে একইভাবে হামলা চালানো হয়। দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দপ্তর ভাঙচুর করে ‘বিজেপি নামধারী’ একদল দুষ্কৃতকারী। ব্যারাকপুরের বরাহনগরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এখানে তৃণমূলের কাউন্সিলর অপর্ণা মৌলিকের দপ্তরেও হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। উত্তর চব্বিশ পরগনার বীজপুরের তৃণমূলের প্রার্থী সুবোধ অধিকারীকে মাটিতে ফেলে বিজেপির সমর্থকেরা ব্যাপক মারধর করেন। এ সময় তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ব্যারাকপুরের তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেতা রাজ চক্রবতীর গায়ে কাদা ছোড়া হয়। তাকে লক্ষ্য করে চটি ছুড়ে মারা হয়। জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামের গায়েও কাঁদা ছোড়া হয়। তার দিকে থুতু ছুড়ে দেওয়া হয়। তাকে উদ্দেশ করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার দেন বিজেপির সমর্থকরা। অন্যদিকে উত্তর চব্বিশ পরগনার ভাটপাড়ার তৃণমূলের প্রার্থী অমিত গুপ্তকে বিক্ষুব্ধ লোকজনের রোষানল থেকে উদ্ধার করেন এই আসনের জয়ী বিজেপির প্রার্থী পবন সিং। পবনের বাবা বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি জয়ী হয়েছেন ব্যারাকপুরের নোয়াপাড়া আসন থেকে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, কোনো তৃণমূল নেতাকর্মীর গায়ে যেন তার হাত না দেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত