ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শাপলা চত্বর হত্যা মামলা

ফারজানা মোজাম্মেল ও দীপু মনিকে হাজিরের নির্দেশ

ফারজানা মোজাম্মেল ও দীপু মনিকে হাজিরের নির্দেশ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে আগামী ১৪ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তাদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদন করা হয়। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৪ মে তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জন আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ওই ঘটনার বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শাপলা চত্বরের মামলা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, বিএনপি সরকার ও প্রসিকিউশনকে ধন্যবাদ -হেফাজতে ইসলাম : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে মো.আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন সংগঠনটির নেতারা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলা নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেভাবে কাজ করছে, সে জন্য সরকার ও প্রসিকিউনশকে ধন্যবাদ জানায় হেফাজতে ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল। পরে তারা ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রসিকিউশন। এরইমধ্যে নতুন চিফ প্রসিকিউটর এসেছেন। তিনি আসার পর হেফাজতে ইসলামের মামলার অগ্রগতি ও কার্যক্রম খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এ মামলা পরিচালনা করা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন চিফ প্রসিকিউটর ও তার দল আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, নতুন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে তারা আজ শাপলা চত্বরের মামলার অগ্রগতি বিষয়ে জানতে এসেছেন। চিফ প্রসিকিউটর তাদের জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে তৎকালীন হাসিনা সরকার যে ম্যাসাকার করেছিল, এটার যাবতীয় তথ্য-উপাত্তের ডকুমেন্ট তারা কালেকশন করেছেন। আগামী ৭ জুন এটার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তারা দাখিল করবেন।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী আরও বলেন, শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, যৌথ বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা সেদিন এ দেশের নিরীহ, নিরপরাধ, নিরস্ত্র মানুষের ওপর এ রকম গণহত্যা চালিয়েছেন, তাদের সবাইকে যেন এই বিচারের মুখোমুখি করে একটা দৃষ্টান্তমূলক যেন শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, সে জন্য তারা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দাবি জানিয়ে এসেছেন। আদালতের কাছে তারা ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এ দেশে এ রকম হত্যাকাণ্ড করার জন্য অন্য কেউ যেন ভবিষ্যতে সাহস না করে, সে দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত